১০ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, ১০:৩৭:৫০ অপরাহ্ন
হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন ড্রোন নিখোঁজ
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৪-২০২৬
হরমুজ প্রণালীর ওপর থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন ড্রোন নিখোঁজ

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে দামি নজরদারি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হরমুজ প্রণালীর ওপর আকাশে উড়ার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছে। আকাশে জরুরি সতর্কতা ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।



প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর ওপর প্রায় তিন ঘণ্টার নজরদারি সম্পন্ন করে ইতালির নৌঘাঁটি নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেল্লার দিকে ফিরে যাচ্ছিল। অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪—এর তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি হঠাৎ সামান্য ইরানের দিকে মোড় নেয় এবং কোড ৭৭০০ (সাধারণ জরুরি সংকেত) পাঠায়। এরপর এটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। পরে সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়।



ড্রোনটি ভূপাতিত হয়েছে নাকি দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।



ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দিন আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করতে রাজি হয়েছে বলে জানা গেছে।



এমকিউ-৪সি ট্রাইটন সম্পর্কে জানা যায়, এটি ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নজরদারি ড্রোন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড অঞ্চলে উপসাগরীয় এলাকায় মোতায়েন থাকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত নজরদারি পরিচালনা করতে সক্ষম।



প্রচলিত বিমানের তুলনায় ট্রাইটনকে বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে দীর্ঘসময় ধরে সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণের জন্য। এটি উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘসময় (২৪ ঘণ্টার বেশি) উড়তে সক্ষম এবং ৫০ হাজার ফুটেরও বেশি উচ্চতায় কার্যক্রম চালাতে পারে। এর পরিসীমা প্রায় ৭ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল। এটি প্রায়শই পি-৮এ পোসাইডন টহল বিমানের ‘চোখ’ হিসেবে কাজ করে।



২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কাছে ২০টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ছিল এবং আরও সাতটি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।



এদিকে, চলমান সংঘাতকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় সম্পর্কেও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট -এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় করছে।

শেয়ার করুন