১৭ মে ২০২৬, রবিবার, ০৯:১৮:০৫ অপরাহ্ন
খায়রুল হককে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৭-০৫-২০২৬
খায়রুল হককে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে নির্দেশনা

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট।



রোববার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করে এ আদেশ দেন।


আদালত রুলে জানতে চেয়েছেন, শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার মিথ্যা মামলায় খায়রুল হককে জড়ানোর কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।


রুলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।


স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার ওসিকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।


খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক গত ১৩ মে রিটটি দায়ের করেন। পৃথক দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এ রিট করা হয়।


আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, মোতাহার হোসেন সাজু, মোস্তাফিজুর রহমান খান, সাঈদ আহমেদ রাজা ও আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীনসহ অন্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।


এর আগে পৃথক পাঁচ মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ওই দুই মামলায়ও গত ১২ মে অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি।


খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দিয়েছিল।


গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।



যুবদল কর্মী হত্যা মামলা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক চার মামলায় গত ৮ মার্চ হাই কোর্ট তাকে জামিন দেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের করা আরেক মামলায় ১১ মার্চ জামিন পান তিনি।


রাষ্ট্রপক্ষ এসব জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করলেও গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ পৃথক লিভ টু আপিল আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে পাঁচ মামলায় তার জামিন বহাল থাকে।


শেয়ার করুন