ভেনিজুয়েলার উত্তর উপকূলে শুক্রবার (২৬ জুন) ৪.৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর কয়েকদিন আগে, বুধবার সন্ধ্যায় দেশটিতে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানী কারাকাসের বেশ কিছু এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল উত্তর ভেনিজুয়েলার মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভূমিকম্পের কম্পন মারাকাই ও রাজধানী কারাকাসেও অনুভূত হয়েছে।
বুধবারের দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা এখনও চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.২ ও ৭.৫। ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ধারণা করছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৭২ জনের বেশি মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। ভেনিজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি।
শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হবে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই সংগঠিত হচ্ছেন।
তারা খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহের পাশাপাশি জীবিতদের খোঁজে কাজ করছেন।
অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন। সরকার এক্স (সাবেক টুইটার)সহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ এখন নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এসব প্ল্যাটফর্মের ওপর নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।
২৫ বছর বয়সী জেনিফার প্যালাসিওস জানান, উদ্ধারকাজের বেশিরভাগই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এলাকার মানুষই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অনেককে জীবিত উদ্ধার করেছে।’
জেনিফারের ছয় বছর বয়সী ছেলেসহ তার আরো পাঁচজন আত্মীয় এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, ‘ধ্বংসাবশেষ সরাতে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে ক্রেন দরকার। এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছে।’

