০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, সোমবার, ০৮:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
হেরোইন ব্যবসায় সরকারি কর্মকর্তার ছেলে
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-১১-২০২২
হেরোইন ব্যবসায় সরকারি কর্মকর্তার ছেলে

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) কর্মকর্তা রুহুল আমিনের ছেলের নেতৃত্বে মতিঝিলের এজিবি কলোনি এবং সাভারে চলছে ইয়াবার কারবার। ছেলের নাম ইশতিয়াক শাহরুখ ওরফে রাকিব। একটি বেসরকারি বিশ্বদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস সাভারে। থাকে মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে। রাকিব ও তার সহযোগীরা সীমান্ত এলাকা থেকে হেরোইন এনে বিক্রি করে।

বুধবার রাতে রাকিব গ্রেফতার হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র যুগান্তরকে জানায়, গ্রেফতার হওয়া রাকিব তার কয়েকজন সহযোগীর নাম জানিয়েছে। তাদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, রাকিবকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু তা আমলে না নিয়ে মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, এজিবি কলোনির বাসায় অভিযান চালিয়ে রাকিবকে ১০০ পুরিয়া (১০ গ্রাম) হেরোইন এবং হেরোইন বিক্রির ২০ হাজার ৪০০ টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুর রহিম। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই শেষে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শুভ্রত সরকার বলেন, আমরাই এই মামলার তদন্ত করব। তার বিরুদ্ধে আগেরও মামলা আছে বলে শুনেছি। তার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য বের করার জন্য আমরা পুলিশের সহায়তা নেব। তিনি বলেন, রাকিব ড্যাফোডিলস ইউনিভার্সিটির ছাত্র। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নিয়মিত হেরোইন সেবন করে। সে সাভার এবং এজিবি কলোনি এলাকায় হেরোইন চক্র গড়ে তুলেছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। আমরা তার ফোনকল রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখব। কার কার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাওয়া গেলে অ্যাকশনে যাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারের পর রাকিবকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চাপ দেওয়া হয়। এতে কাজ না হলে মাদকের পরিমাণ কম দেখানোর অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে যে পরিমাণ মাদক পাওয়া গেছে ঠিক সে পরিমাণ উল্লেখ করেই মামলা করা হয়েছে।

জানা যায়, সরকারি চাকরি সূত্রে এজিবি কলোনির আইডিয়াল জোনের ১২৫/১ নম্বরের ৫ তলা ভবনের নিচতলায় পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটটি বরাদ্দ হয় রুহুল আমিনের নামে। সেখানেই পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। ওই বাসায় থেকেই রুহুল আমিনের ছেলে চালাচ্ছিল মাদক কারবার।

ডিএনসি’র কর্মকর্তারা জানান, রাকিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবারে জড়িত। তার সঙ্গে ৭-৮ জন জড়িত। চক্রটি দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হেরোইন এনে রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি বাসায় রাখত। সেখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত। দীর্ঘদিন ধরে রাকিবের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পাচ্ছিল মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই অভিযোগের সূত্র ধরে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। ডিএনসি’র কর্মকর্তারা আরও জানান, মাদক কারবারি চক্রটিতে দুজন মূলহোতা রয়েছে। তারাই চক্রের চালিকাশক্তি হিসাবে কাজ করে।

এ বিষয়ে মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে খিলগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক আব্দুর রহিম বলেন, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিবের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাকিবের বাবা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার ছেলে পোলাপান। ভুল করতেই পারে। তার কিছু হবে বলে আমার মনে হয় না। আজ দেরিতে আদালতে তোলা হয়েছে। এ কারণে জামিন করাতে পারিনি। আশা করছি, আগামী তারিখে তার জামিন হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে আমার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আকাশ নামের এক ছেলে রাকিবের বন্ধু। সে (আকাশ) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি করে। পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসা করে। ইয়াবাসহ ধরা খেয়ে তার চাকরি চলে গেছে। এ কারণে আমার ছেলের ওপর তার ক্ষোভ ছিল।’

শেয়ার করুন