২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৯:০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
১৪ বছর পর বাতিল হচ্ছে বিআরটি প্রকল্প, ৬ লেনের মহাসড়ক হবে বিমানবন্দর-গাজীপুর সড়ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ২০-১০-২০২৬
১৪ বছর পর বাতিল হচ্ছে বিআরটি প্রকল্প, ৬ লেনের মহাসড়ক হবে বিমানবন্দর-গাজীপুর সড়ক

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় নির্মিত স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। পাশাপাশি দুই লেনের দুটি ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।



সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটি শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।


উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলি স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট)’-এর ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা শেষে প্রকল্পটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটি করিডোরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে সড়কটিকে তিন প্লাস তিন লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে দুই লেনের দুটি ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।


চিঠিতে আরও বলা হয়, বিআরটি পরিচালনার জন্য গঠিত ‘ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি’ বন্ধ করে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), সওজ ও বিআরটি কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদনও মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।


২০১২ সালে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। মহাসড়কের মাঝখানে পৃথক দুটি লেনে বিশেষ বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়ে ২০১৬ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রকল্পে অর্থায়ন করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)। বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল সওজ, সেতু বিভাগ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।


প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। পরে তিন দফা সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায়। গত ১৪ বছরে প্রকল্পটিতে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বিশেষ বাস চালু করা সম্ভব হয়নি।



এর আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পটির কারিগরি দিক পর্যালোচনা করে এটি বাতিল এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে প্রকল্পের পরিকল্পনা ও নকশায় ত্রুটি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করা হয়।


তবে প্রকল্পের কাজ ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর তা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ‘গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন’ নামের একটি সংগঠন। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানোর কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।




শেয়ার করুন