রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা বাজারে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাঙ্গো লাভার এর কার্যালয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মুরাদ পারভেজকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরনিম আকতার তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মুরাদ পারভেজ (৩৫) পবা উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার মো. মুনতাজ আলীর ছেলে। আদালতের আদেশের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই রাজশাহী কলেজের ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী পবা থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মুরাদ পারভেজকে। অপর আসামিরা হলেন তার বন্ধু শের আলী দুলাল এবং রিপন আলী।
এজাহার অনুযায়ী, রিপন আলীর মাধ্যমে শের আলী দুলালের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। গত ২১ জুলাই শের আলী ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসেন। পরে ওই তরুণী ও তার ছোট বোনের সঙ্গে তিনি দেখা করেন এবং বিয়ের কেনাকাটা করেন।
কেনাকাটা শেষে তারা পবা উপজেলার নওহাটা বাজারে ‘ম্যাঙ্গো লাভার’-এর কার্যালয়ে যান। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একটি কক্ষে শের আলী দুলাল ওই তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে মুরাদ পারভেজ কার্যালয়ে ফিরে এলে শের আলী সেখান থেকে চলে যান। এরপর মুরাদ পারভেজও তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় ওই তরুণী কার্যালয় থেকেই পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বিষয়টি জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে মুরাদ পারভেজ সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এর আগে মামলার ঘটনায় মুরাদ পারভেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তিনি তা অস্বীকার করেন। তার দাবি ছিল, শের আলী দুলাল ওই তরুণীকে বিয়ে করতে রাজশাহীতে এসেছিলেন। পরে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।