রোজার শুরুতে বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যমূল্যে স্বস্তি ছিল। কিন্তু শেষ দিকে এসে দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগির দাম ৪০ টাকা বেড়েছে।
শুক্রবার ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২২৫ টাকা থেকে ২৩০ টাকায়।
খামারিরা বলছেন, একদিকে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার দাম বেড়েছে অন্যদিকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুরগির খাবারের দামও বেড়েছে। এ কারণে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম হু হু করে বাড়ছে। এদিকে পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। আগের মতই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর রমজানের ঈদের সময় ব্রয়লার মুরগির দাম বৃদ্ধি নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে হারে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে সে হারে খাবারের দাম বাড়েনি। শবেকদর ও ঈদের সময় মুরগির চাহিদা বাড়তি থাকে। সেই চাহিদাকে পুঁজি করে দফায় দফায় মুরগির দাম বাড়ানো হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে বাজারে প্রতিদিনই মুরগির দাম বেড়েছে। মার্চের শুরুতে চট্টগ্রামে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ১৬৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১৯০ টাকায়। গত সপ্তাহে কেজিতে নতুন করে আরও ১৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২০৫ টাকায়। বুধবার থেকে আরও ২৫ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা দরে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে দেশি ও সোনালি মুরগির দাম। বাজারে দেশি মুরগি ৬০০ ও সোনালি ৩৩০-৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
খামারিদের দাবি, তারা ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছেন। বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করছে না। একদিকে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা সরবরাহ করছে কম, অন্যদিকে বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি ব্রয়লার বাচ্চা ৬০ টাকার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। খাবারের দাম বেড়েছে। গত বছর প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) খাবার (ফিড) ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। প্রতি কেজি মুরগিতে উৎপাদন খরচ হয় ১৩০ টাকা। খামার থেকে প্রতি কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাজেই খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি ২৩০ টাকা হওয়াটা অস্বাভাবিক।
লোহাগাড়ার পোলট্রি খামারি ইয়াসির উদ্দিন জানান, বাজারে ব্রয়লার মুরগির বাচ্চার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এক দিন বয়সি ব্রয়লার বাচ্চা এখন বাজারে নেই। খামারিরা ইচ্ছা করলেও বাচ্চা কিনতে পারছেন না। তার খামারেও ব্রয়লারের শেড খালি পড়ে আছে। কিছু অখ্যাত কোম্পানি একদিন বয়সি বাচ্চা বিক্রি করছে প্রতিটি ৬৫ টাকার বেশি দামে। তাও সীমিত আকারে। অনেক খামারের শেড খালি পড়ে আছে।
বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি ও জেলা প্রশাসনের তৎপরতার কারণে ভোজ্যতেলে দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১০ টাকার মতো কমেছে। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব নেই। খুচরা বাজারে আগের মতই বাড়তি দাম আদায় করা হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের কঠোর উদ্যোগ এবং দফায় দফায় অভিযানের পর ভোজ্যতেলের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ তেল সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে এখন ভোজ্যতেলের সংকট নেই বললেই চলে। নগরীর বড় পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে এক সপ্তাহ আগে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৬০ টাকা ৩৭ পয়সায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫২ টাকায়। একই সময়ে পাম অয়েলের দাম ৩ টাকার বেশি কমে ১৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে নগরীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ দোকানে এক, দুই ও পাঁচ লিটার পরিমাণের বোতলজাত সয়াবিন তেল দেখা গেছে। তবে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ বেশি দেখা গেছে। প্রতি লিটার তেল ১৭৫ টাকা বিক্রির কথা থাকলেও এলাকাভেদে খুচরা পর্যায়ে মিলছে ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকায়। অপরদিকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। যদিও গত ৪ মার্চ চট্টগ্রাম জেলার জন্য প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দাম ১৬০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন।
বাজারদর:
মাংসের দামের পাশাপাশি কিছুটা বেড়েছে সবজির দাম। ফুলকপি-বাঁধাকপি, বেগুন-মুলাসহ বিভিন্ন সবজির দাম ৫০-৬০ টাকার মধ্যে আছে। গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে পটোল-ঢেঁড়স ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা ১০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, পেঁয়াজকলি ৩০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবু আকারভেদে প্রতি ডজন ১২০ থেকে ২২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধনেপাতা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। লাল শাক, লাউ শাক, কলমি শাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। মাছের মধ্যে রুই মাছ ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কালিবাউশ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ছোট-বড় চিংড়ি মাছ ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, চাষের ও দেশি কৈ মাছ ২০০ থেকে ১০০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, চাষের ও দেশি শিং মাছ ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।