০৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ০৮:৫৪:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের হাতাহাতি
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-১০-২০২৬
আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিতে আইনজীবীদের হাতাহাতি

জামায়াতে ইসলামীর নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের জামিন শুনানিতে আদালতে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন আইনজীবীরা।


রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।


আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যে এজলাস ছাড়েন বিচারক।


শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে করা এ মামলায় এ দিন জামিন শুনানি ছিল আখতারুজ্জামানের।


শুনানি শুরুর আগে দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটের দিকে আখতারুজ্জামানকে মাথায় হেলমেট ও হাতকড়া পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়। এর আগে থেকেই এজলাস বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।


আখতারুজ্জামানকে এজলাসে তোলার মিনিট দুয়েক পর ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাসে ওঠেন। এজলাসে দাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ২ টা ৪১ মিনিটের দিকে ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।


রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। মিনিট দুয়েক পর পুনরায় এজলাসে আসেন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।


এসময় হাত তুলে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আখতারুজ্জামান বলেন,"আমার পক্ষে ১০ জন আইনজীবী কথা বলবেন। ১০ জনের শুনানি করার অনুমতি প্রার্থানা করছি।"


এরপর আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক জামিন শুনানি শুরু করে বলেন,"তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সবকিছুর সিটিটিভির ভিডিও আছে। শুধু মারধর করার দৃশ্য নাই। মুল ব্যাপার হলো, রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড। তিনি নতুন দলে যোগদান করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলা সৃজন করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ, ৭৩ বছর বয়স্ক লোক। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তার জামিন চাইছি। "


এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আখতারুজ্জামান কথা বলতে চান। তখন বিচারক বলেন,"সবাই একসঙ্গে কথা বললে তো শুনতে পাব না। একজন একজন করে বলেন।"


তখন ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে মামলার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন।


বিমানবন্দরের ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন,"প্রতিবাদ করার ধরন আছে। ধরন যদি ঠিক না থাকে, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তাদের (জামায়াতে ইসলামী) একটা কাজ হচ্ছে উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ না করে দেশকে অস্থিতিশীল করা যায় কীভাবে, সেটা করা।"


গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে নাম লেখান একসময়ের বিএনপি নেতা আখতারুজ্জামান। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দুবার কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন তিনি।


বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ ধরে শুনানিতে ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “বিএনপি বহু দলের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ নিমক খেয়ে ভুলে যায়। অন্য দলে যোগদানের জন্য মামলা দিতে হবে, এমনটা বিএনপি করে না।”


জামায়াতে ইসলামের আইনজীবীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন,"আমাদের মধু খেয়ে বেঁচে ছিলেন।"


এ কথার বিরোধিতা করেন জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবীরা। তখন এজলাস কক্ষে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।


তখন ওমর ফারুক বলেন,"আপনারা রাজনীতি না আনলে আমিও আনতাম না। এমন মানসিকতা আমাদের নেই।”


জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা ফেইসবুকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে যাকে ইচ্ছে, যা-তা বলেন। উনি যে কাজ করেছেন তা অপরাধ। মামলা জামিন অযোগ্য ধারায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। জামিন পেলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাবেন। জামিনের বিরোধিতা করছি। আর তুচ্ছ ঘটনা থেকে এমন কিছু না, আরও রহস্য আছে।"


ৃ

ওমর ফারুকের বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন,"দায়িত্বশীল পদে থেকে তার এ ধরনের বক্তব্য আশা করি না। তিনি 'বাতিল মাল' বলে আসামিকে মন্তব্য করেন। এসময়ও আদালতে উত্তেজনা তৈরি হয়।”


আব্দুর রাজ্জাক বলেন,"উনাদের ভূমিকা পজিটিভ হওয়া দরকার। তিনি জামিন পাওয়ার হকদার। তার জামিন প্রার্থনা করছি।"


তখন ওমর ফারুক বলেন,"আখতারুজ্জামান ফ্যাসিস্টের পক্ষে গিয়ে নির্বাচন করেছেন। জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, এর ভিডিও আছে। নিজেকে বাঁচাতে জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছে। জামায়াতে ইসলাম তাকে আশ্রয় দিয়েছে আমাদের গালাগালি করতে।"


পরে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


আখতারুজ্জামানকে হাজির করা হবে জেনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা আদালতপাড়ায় ভিড় করেন। তাকে নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।


শুনানি শেষে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতের নিচে এসে তাদের বের করে দিতে যান। কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে তারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে কয়েকজনকে মারধর করে আদালত প্রাঙ্গন থেকে বের করে দেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এদিকে নিচে এসে জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা তাদের রক্ষা করতে যান। এসময় দুই পক্ষের আইনজীবীরা ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আখতারুজ্জামানের উচ্চ-বাচ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


তাতে দেখা দেখা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের ইউডি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে বলছেন, “ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?”


এ ঘটনায় শুক্রবার ভোরে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।


পরের এ মামলায় আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেয় আদালত। সেই রিমান্ড শেষে রোববার তাকে পাঠানো হয় কারাগারে।


শেয়ার করুন