০৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ১১:৫৬:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাবিতে সাংবাদিকদের মারধর: ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার, ৬ জনকে শোকজ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-১০-২০২৬
রাবিতে সাংবাদিকদের মারধর: ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার, ৬ জনকে শোকজ

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীবসহ তিন নেতাকে বহিষ্কার এবং ছয় জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।


সোমবার (৫ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং ছাত্রদল নেতা বিশাল চক্রবর্তী। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আহসান ও হাসিবুলকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের সংগঠনের সাংগঠনিক পদ এবং বিশালকে ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহ-সভাপতি বুলবুল রহমান, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রদল নেতা সাজু।

বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে তাদের ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা বলা হয়। 

এর আগে গতকাল (রোববার) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পরে রাতেই দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।  



বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পালটাপালটি পোস্ট করেন।

রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ মার্কেট দপ্তরে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকাল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। 

ছাত্রদলের ওই অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে মিছিল নিয়ে যান। পরে সেখানে দুই দফা হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

শেয়ার করুন