১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৪:৪৩:৩১ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে হাসপাতাল ও ফার্মেসিতে মিলছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০১-২০২৬
রাজশাহীতে হাসপাতাল ও ফার্মেসিতে মিলছে না জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে নগরীর ফার্মেসিগুলোতেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিয়মিতভাবে এখানে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হলেও গত ২১ দিন ধরে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগীরা প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ জন রোগী জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেন। সে হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুকুরের নির্দিষ্ট কোনো প্রজনন মৌসুম না থাকলেও ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে (আগস্ট-অক্টোবর) তারা তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকে। বর্তমানে অনেক কুকুর বাচ্চা প্রসব করায় তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ের ঘটনা বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভ্যাকসিন না পেয়ে তারা নগরীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে ঘুরছেন, কিন্তু সেখানেও ভ্যাকসিন মিলছে না। রামেক হাসপাতালকেন্দ্রিক লক্ষ্মীপুর এলাকায় অবস্থিত একাধিক ফার্মেসিতে খোঁজ করেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি।

ঔশী ফার্মেসির এক বিক্রেতা জানান, হাসপাতালে যেমন ভ্যাকসিন নেই, তেমনি দোকানগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন অনেক রোগী ভ্যাকসিন খুঁজতে আসছেন। তিনি বলেন, আগে এক ভায়াল ভ্যাকসিনের দাম ছিল প্রায় ৪০০ টাকা, কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ না থাকায় দাম সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

নগরীর কুখুন্ডি বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দা কুদ্দুস আলীর মেয়েকে দুই সপ্তাহ আগে কুকুরে কামড় দেয়। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে দুই ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছেন এবং বাইরে থেকে এক ডোজ নিতে হয়েছে। শনিবার আরেক ডোজ দেওয়ার কথা থাকলেও এখন ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

এদিকে বুধবার (৭ জানুয়ারি) কুকুরের কামড়ে আহত হন আলী হোসেন (১৮)। বৃহস্পতিবার তিনি রামেক হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে এসে তা না পেয়ে বাইরে ফার্মেসিতেও খোঁজ করেন। সেখানেও ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়া যায় বলে এসেছিলাম। পরে টাকা জোগাড় করেও কোথাও ভ্যাকসিন পেলাম না।”

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “গত তিন সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সরবরাহ নেই। প্রতিদিন আমাদের চাহিদা ২৭০ থেকে ২৮০টি ভ্যাকসিন।”

রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাফরুল হোসেন বলেন, শুধু রাজশাহী নয়, সারা দেশেই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সংকট চলছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন