১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ১২:১৮:৫১ অপরাহ্ন
ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল সেনাবাহিনী
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০১-২০২৬
ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল সেনাবাহিনী

ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) পৃথক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয় আইআরজিসি ও সেনাবাহিনী।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত দুই রাত ধরে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ঘাঁটি দখলের চেষ্টা করেছে, বেশ কয়েকজন নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা-কর্মীকে হত্যা করেছে এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির নিরাপত্তার স্বার্থে আইআরজিসি ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ক্ষতির চেষ্টা করা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পৃথক এক বিবৃতিতে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী জানায়, “ইরানের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবমূল্যায়ন, চরম মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেখান থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।

কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিন আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ।

বিক্ষোভ দমাতে সরকারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। গতকাল সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

মার্কিন সাময়িকী টাইমস-এর তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর গত ১৩ দিনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইরানে নিহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।

এদিকে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারকে সতর্ক করে আসছেন। তার দাবি, আন্দোলন দমাতে সরকার যদি কঠোর পন্থা অবলম্বন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। এ পর্যন্ত চারবার এ ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: এএফপি

শেয়ার করুন