১৩ জানুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৭:৩৬:২২ পূর্বাহ্ন
বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে ইরানে অভিযানের ইঙ্গিত দিলো ইসরায়েল
স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০১-২০২৬
বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে ইরানে অভিযানের ইঙ্গিত দিলো ইসরায়েল

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের এই বিক্ষোভকে দেশটির জনগণের “স্বাধীনতার সংগ্রাম” হিসেবে অভিহিত করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার।

রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে গত কয়েক দিন ধরে টানা প্রাণঘাতী বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও দ্রুত তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় গিদিওন সার বলেন, “আমরা ইরানি জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামে সমর্থন জানাই এবং তাদের সাফল্য কামনা করি। আমরা বিশ্বাস করি, তারা স্বাধীনতার যোগ্য। ইরানের জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটি বড় সমস্যা রয়েছে, যা শুধু আমাদের নয়—এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা। সেটি হলো ইরানের শাসনব্যবস্থা, যা সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার প্রধান রপ্তানিকারক।”

এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। তিনি বলেন, এই বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি হিসেবে ইসরায়েল নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও অভিযানের প্রস্তুতি জোরদার করছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “প্রয়োজনে শক্ত হাতে জবাব দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব।”

অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে।

এর আগে রোববার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ-পরিবহন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হানবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে ঘালিবাফ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা চালায়, তাহলে দখলকৃত ভূখণ্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ-পরিবহনের কেন্দ্রগুলো আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।”

ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

শেয়ার করুন