১৬ জানুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ০২:২৫:০৩ অপরাহ্ন
মাচাদোকে ‘অসাধারণ নারী’ বলে ভূয়সী প্রশংসা করলেন ট্রাম্প
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৬-০১-২০২৬
মাচাদোকে ‘অসাধারণ নারী’ বলে ভূয়সী প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সাহসিকতা ও ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে মাচাদোর সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাতের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে মাচাদোকে ‘অসাধারণ নারী’ হিসেবে অভিহিত করেন। 


এই বৈঠকের সময় মাচাদো তার অর্জিত নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন। ট্রাম্প এই উপহারকে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য নিদর্শন’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং মাচাদোর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি নিজের সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, মাচাদো একজন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা নারী যিনি দেশের গণতন্ত্রের জন্য অনেক প্রতিকূলতা সহ্য করে এসেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, মাচাদো তাকে পদকটি উপহার দিয়েছেন মূলত ভেনেজুয়েলায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের স্বীকৃতি স্বরূপ। মাচাদো ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন। 


অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও দীর্ঘদিন ধরে এই সম্মানজনক পুরস্কারটি পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে আসছেন এবং একাধিকবার জনসমক্ষে তার এই আকাঙ্ক্ষার কথা ব্যক্ত করেছেন। গত বছর মাচাদো যখন এই পুরস্কার পান, তখন ট্রাম্প কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও মাচাদো পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন যে তিনি এই সম্মান ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।


তবে এই পদক হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে আইনি বাধ্যবাধকতার কথা আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষিত হয়ে গেলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্য কারও কাছে আইনগতভাবে হস্তান্তর করার সুযোগ নেই। পদকটি প্রতীকীভাবে অন্য কাউকে উপহার দেওয়া সম্ভব হলেও ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী’র অফিশিয়াল উপাধিটি কখনোই পরিবর্তন করা যায় না। 


অর্থাৎ, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ট্রাম্প এই পদকটির মালিকানা পেলেও নথিপত্র বা ইতিহাসের পাতায় মাচাদোই বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃত থাকবেন। মাচাদো ও ট্রাম্পের এই বৈঠকটি ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে মাচাদো তার সমর্থকদের উদ্দেশে জানান যে, ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেলখাত পুনর্গঠন এবং দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে। 


মাচাদোর এই সফরের ফলে ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক জোটের প্রতি মার্কিন সমর্থন আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প ও মাচাদোর এই ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা’র সম্পর্ক লাতিন আমেরিকার দেশটিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সূত্র: এএফপি


শেয়ার করুন