বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ সম্প্রতি উভয়ের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও ছায়া ফেলেছে। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের খেলতে না চাওয়ার বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। এরই মাঝে দুই দেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দল মুখোমুখি হয় যুব বিশ্বকাপে। যেখানে ক্রিকেটীয় ভাবধারার পরিপন্থি দৃশ্যের জন্ম হয়। টসের সময় হাত মেলাননি বাংলাদেশ-ভারতের অধিনায়ক।
পরে অবশ্য খেলা শেষে হাত মিলিয়ে উভয় দলের ক্রিকেটাররা। অ-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ গতকাল (শনিবার) নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেমেছিল ভারতের বিপক্ষে। যথারীতি এদিনও উভয় দলের পারফরম্যান্স রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। টানটান উত্তেজনা ও লক্ষ্য তাড়ায় ছোটার পথে স্নায়ু ধরে রাখতে পারেনি যুব টাইগাররা। অবশ্য বৃষ্টির কারণে সুবিধা পেয়েছে ভারতও। খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই হানা দেয় বৃষ্টি। এক ওভার কমিয়ে ম্যাচ নির্ধারিত হয় ৪৯ ওভারে। তবে ভারত ৪৮.৪ ওভারেই ২৩৯ রানে গুটিয়ে যায়।
লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ শুরুতে সঠিক কক্ষপথেই ছিল। আজিজুল হাকিম তামিমের দল ১৭.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৯০ রান তুলতেই আবারও হানা দেয় বৃষ্টি। তাতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য আরও কমিয়ে ২৯ ওভারে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৬৬ রান। তখন দ্রুত রান তুলতে গিয়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে দেড়শ’র আগেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ডিএল মেথডে ১৮ রানের জয় পায় ভারত। এরপর মাঠের দ্বৈরথ ভুলে হাত মেলাতে দেখা যায় উভয় দলের ক্রিকেটারদের।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টস দিতে নেমেছিলেন জাওয়াদ আবরার। মূল অধিনায়ক তামিম অসুস্থতার কারণে তখন উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে জানিয়েছে বিসিবি। অন্যদিকে, ভারতের হয়ে যথারীতি কয়েন ছুঁড়েছেন আয়ুশ মাহাত্রে। টস জেতার পর তিনি বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ককে এড়িয়ে পাশে সরে যান। তার সঙ্গে করমর্দন করেননি। আবরারও হাত মেলানোর উদ্যোগ নেননি। যা ভারত-পাকিস্তানের খেলার আগে-পরে হাত না মেলানোর বহুল আলোচিত দৃশ্য স্মরণ করিয়ে দেয়। পরে অবশ্য অসাবধানতাবশত এমনটা ঘটেছে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে বিসিবি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বলেছে, ‘অসুস্থতার কারণে নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম টসে উপস্থিত থাকতে পারেননি, ফলে সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার সে সময় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিসিবি স্পষ্ট করতে চায় যে প্রতিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন না করাটা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং তা সাময়িক অসাবধানতার ফল। প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো ধরনের অশোভনতা বা অসম্মান প্রদর্শনের কোনো অভিপ্রায় এতে ছিল না। বোর্ড বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে, কারণ ক্রিকেটের চেতনা ও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা যেকোনো স্তরেই একটি মৌলিক শর্ত। এ বিষয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’
বিসিবির এমন মনোভাবের প্রতিফলনই দেখা গেল ম্যাচ শেষে। অবশ্য ভারতীয় ক্রিকেট বিসিসিআই এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

