০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ০৭:১৩:০২ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার স্থান বদলাতে চায় ইরান
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০২-২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার স্থান বদলাতে চায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি সপ্তাহের আলোচনার স্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বদলে ওমানে করতে চায় ইরান এবং আলোচনার পরিধি কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সীমিত রাখতে চায় বলে মঙ্গলবার এক আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি বলেছে, এই দাবি ইতিমধ্যেই নাজুক কূটনৈতিক উদ্যোগকে আরও জটিল করে তুলেছে।



শুক্রবার ইস্তাম্বুলে নির্ধারিত আলোচনার স্থান ও এজেন্ডা বদলের এই উদ্যোগ আসে এমন এক সময়ে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি জড়ো করছে এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার হুমকিতে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর দিকে ‘আগ্রাসীভাবে’ এগিয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।


হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখনই তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ তবে আলোচনার স্থান নিয়ে তিনি বিস্তারিত বলেননি। ইরানের দাবির বিষয়ে অবহিত এক আঞ্চলিক কূটনীতিক জানান, তেহরান ‘ফরম্যাট ও পরিধি বদলাতে চায়’ এবং যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীর কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে চায়, সেখানে ইরান কেবল পারমাণবিক ফাইলেই আলোচনা করতে আগ্রহী।


হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এ সপ্তাহেই ইরানের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ভেন্যু নিয়ে পরামর্শ চলমান এবং তুরস্ক, ওমানসহ কয়েকটি দেশ বৈঠক আয়োজনের আগ্রহ দেখিয়েছে।


এর আগে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত এক সূত্র বলেছিল, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পাশাপাশি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নিতে পারেন। পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে আশা করা হয়েছিল, তবে এখন তেহরান কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চায় বলে আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে।


ইরানে গত মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর জড়ো করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একটি যুক্তরাষ্ট্র-পতাকাবাহী তেল ট্যাংকারকে হয়রানি করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুটি নৌকা ও একটি ইরানি মোহাজের ড্রোন ট্যাংকারটির কাছে এসে সেটি দখলের হুমকি দেয়। পরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ট্যাংকারটিকে নিরাপদে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।


সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, অঞ্চলটি আরেকটি সংঘাত বহন করতে পারবে না এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান প্রয়োজন। উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে ইরান তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে পারে।


গত জুনে ১২ দিনের ইসরায়েলি অভিযানের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর তেহরান বলেছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ট্রাম্প তিনটি শর্ত দিয়েছিলেন—ইরানে শূন্য সমৃদ্ধকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা। ইরান এই তিনটিকেই সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করলেও, দুই ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিই বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে নমনীয়তা দেখাতে প্রস্তুত, এমনকি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম হস্তান্তর ও শূন্য সমৃদ্ধকরণও বিবেচনায় রয়েছে।


শেয়ার করুন