১৫ জানুয়ারী ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১১:০৭:১১ পূর্বাহ্ন
ইরানে হামলার প্রাথমিক আলোচনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা
  • আপডেট করা হয়েছে : ১১-০১-২০২৬
ইরানে হামলার প্রাথমিক আলোচনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানের বিরুদ্ধে কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া যায় এবং কোন কোন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে—তা নিয়ে আলোচনা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক আকারের বিমান হামলা চালানো। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াশিংটন ঐকমত্যে পৌঁছায়নি।



সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট


তবে সম্ভাব্য হামলার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা সেনা মোতায়েন করা হয়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব আলোচনা থেকে এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না— যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবেই; বরং এ ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।


তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত। তিনি শনিবার ট্রুথ সোশালে লেখেন— ‘ইরান হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি করে স্বাধীনতার মুখোমুখি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!’


ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা একেবারেই নজিরবিহীন নয়। ট্রাম্প গত বছরের জুন মাসে প্রথমবারের মতো ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।


যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ছয়টি “বাঙ্কার বাস্টার” বোমা নিক্ষেপ করে তিনটি স্থাপনায়, যার মধ্যে ছিল ইরানের ফোরদো পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র—যেটি একটি পাহাড়ের প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গভীরভাবে সুরক্ষিত অবস্থানে অবস্থিত।


ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দেওয়ার পর এই বোমাবর্ষণ করা হয়। এ হামলা ইসরায়েলের তেহরানের সামরিক অবকাঠামোর ওপর চালানো ব্যাপক হামলার সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালিত হয়েছিল।


মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আসে ট্রাম্পের একাধিক সতর্কবার্তার পর, যেখানে তিনি বলেছেন—ইরানি সরকার যদি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতা চালিয়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের পক্ষে প্রতিক্রিয়া জানাবে।


শুক্রবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা গুলি চালানো শুরু করো না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি চালাতে শুরু করব।’


এর জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুক্রবার প্রচারিত এক বক্তব্যে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করে বলেন, ‘তার হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত।’


শেয়ার করুন