১১ দলীয় জোট নিয়ে চলমান আলোচনা ও বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই জোট ভাঙছে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, জোট ছিল, জোট আছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন ক্লিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলের পক্ষ থেকে আজ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও অনিবার্য কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যে কারণে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের লিয়াজোঁ কমিটি বসেছে। আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই আমরা আবার আপনাদের সামনে আসবো এবং জোটের সর্বশেষ আপডেট জানাবো।’
১১ দলীয় জোট ভেঙে যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
‘আলহামদুলিল্লাহ, জোট আছে এবং জোট অব্যাহত থাকবে। আমাদের জোটভুক্ত ভাইয়েরাও তাদের ব্রিফিংয়ে বলেছেন যে তারা জোটে আছেন। আমাদের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করে বলছি, জোট নিয়ে কোনো সংকট নেই। জোট ঠিক আছে।’
আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন ও জোটের গুরুত্ব কমে গেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার এখনো একাধিক ধাপ বাকি রয়েছে।
‘বর্তমানে যেসব আসনে রিটার্নিং অফিসার প্রার্থিতা বাতিল বা স্থগিত করেছেন, সেগুলোর আপিল শুনানি চলছে। কিছু আপিল নির্বাচন কমিশনে, আবার কিছু মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ। ২২ জানুয়ারি থেকে আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, যেসব আসনে এখনো সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
‘ইনশাল্লাহ, দু-এক দিনের মধ্যেই বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে এবং আপনারা তা জানতে পারবেন।’
জোট টিকিয়ে রাখতে জামায়াত কতটা ছাড় দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে।
‘শুরুতে জোট ছিল পাঁচ দলের, পরে আট দল এবং এখন ১১ দলে পরিণত হয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে আমরা একসঙ্গে মাঠে ছিলাম এবং পাঁচ দফা দাবির আন্দোলন করেছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল এবং এখনো রয়েছে।’
তিনি বলেন, আট দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সময় আরও তিনটি দল যুক্ত হওয়ায় আলোচনা কিছুটা সময় নিচ্ছে।
‘তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ ১১ দলীয় জোটের মধ্যে এখনো একটি সুন্দর পরিবেশ বজায় আছে এবং তা আমরা অব্যাহত রাখবো।’
সবশেষে তিনি বলেন,
‘সব দল তাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ উদারতা, সহনশীলতা, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে ভূমিকা রাখছে। জোট ভাঙার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হবে না বলেই আমরা আশাবাদী।’
জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে যথাসময়ে তা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

