পে-স্কেল নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ফের সভায় বসতে যাচ্ছে পে-কমিশন। সভায় সর্বোচ্চ বেতন, সর্বনিম্ন বেতন ছাড়াও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। আলোচনায় সদস্যরা একমত পোষণ করলে এ বিষয়গুলো চূড়ান্ত হতে পারে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের পুরাতন ভবনের সভাকক্ষে পে-স্কেল নিয়ে পূর্ণ কমিশনের সভা শুরু হবে। সভায় সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন ছাড়াও গ্রেড সংখ্যা, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা, অবসরকালীন সুবিধা ছাড়াও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হবে। আলোচনায় যে বিষয়গুলোতে ঐক্যমতে পৌছানো যাবে কমিশন সেগুলো চূড়ান্ত করবে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পে-কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, কমিশন কেবল সুপারিশই জমা দেবে না। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, আবাসন ও শিক্ষা ব্যয়কে প্রধান সূচক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। এই পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্কই ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য বেতন কাঠামো নির্ধারণে মূল রেফারেন্স হবে।
এদিকে নবম পে-স্কেলে বেতনের অনুপাত ১:৮ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে পে-স্কেল নিয়ে পূর্ণ কমিশনের সভায় এ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয় বলে কমিশনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পূর্ণ কমিশনের সভায় উপস্থিত কমিশনের এক সদস্য বলেন, বেতনের অনুপাত নিয়ে তিন ধরনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ১:৮, ১:১০ এবং ১:১২। এর মধ্যে ১:৮ অনুপাত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া সর্বনিম্মন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব পর্যালোচনা হয়েছে। পরবর্তী সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
নবম জাতীয় পে-স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে পে-কমিশন। এই তিন প্রস্তাবের যে কোনো একটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পূর্ণ কমিশনের সভায় উপস্থিত পে-কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাব ২১ হাজার টাকা বেতন স্কেল ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার এবং সবশেষ তৃতীয় প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ বেতন স্কেল কত হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এটি এখনো ফাইনাল করা যায়নি। বেতনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতার বিষয়টি রয়েছে। এগুলো কেমন হবে তা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় সর্বোচ্চ বেতন স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো প্রস্তাবনা আসেনি।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়। কমিশনের সভাপতি সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশনের দায়িত্ব হলো সরকারি কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করা। কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।

