টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ–এর একটি নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের মেঘারপটল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। তবে ওই সময় কোনো সংঘর্ষ হয়নি বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এর কিছু সময় পর ওই এলাকায় অবস্থিত জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়া হয়।
ঘটনার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুললেও, ঘটনার তিন দিন পার হলেও এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি তারা।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গাবসারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এম ফরহাদুল ইসলাম শাপলাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার রাতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জমান তালুকদার সেলুর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় কৃত্রিমভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলা হচ্ছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জমান তালুকদার সেলু বলেন, সেদিন শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, কোনো মারামারি হয়নি। এই ঘটনার পেছনে তৃতীয় পক্ষ জড়িত থাকতে পারে। তারপরও দলীয়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না।

