যুক্তরাষ্ট্রের ইরান অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন সোমবার নিহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।
এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, প্রাথমিক আক্রমণে গুরুতর আহত হওয়া এক সেনা সদস্য সোমবার মারা গেছেন। এছাড়া আগে নিখোঁজ থাকা অন্য দুই সেনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬।
পেন্টাগন কর্মকর্তারা মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, একটি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে।
হেগসেথ ঘাঁটির নাম প্রকাশ না করলেও, ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী হতাহতের এই ঘটনাটি কুয়েতে ঘটেছে।
হেগসেথ বলেন, ‘আমাদের দুর্দান্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে এবং আমরা প্রায় সবকিছুই রুখে দিই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত মাঝে মাঝে দু-একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ভেতরে চলে আসে। এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি একটি ট্যাকটিকাল অপারেশন সেন্টারে আঘাত হেনেছে।’
‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার জানিয়েছে, আহত সেনার সংখ্যা ৫ থেকে বেড়ে ১৮-তে দাঁড়িয়েছে। আহতদের আঘাত কতটা গুরুতর বা তাদের চিকিৎসার জন্য জার্মানি বা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তারা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে একযোগে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা নিহত হন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, প্রাথমিক হামলায় এ পর্যন্ত ৫৫৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।
জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান এয়ার ফোর্স জেনারেল ড্যান কেইন সোমবার জানান, ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত বিমান শক্তি পাঠানো হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে আরও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। কেইন বলেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান।’

