০৯ মার্চ ২০২৬, সোমবার, ১১:৪০:৫৮ অপরাহ্ন
তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলা করেনি ইরান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৩-২০২৬
তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলা করেনি ইরান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শবেকদর উপলক্ষে সরকারি ছুটির মধ্যবর্তী দিন ১৮ মার্চ (বুধবার) নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এতে এবার ঈদুল ফিতরে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।


রোববার (৮ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে এই ছুটির আওতায় সব ধরনের সেবা ও প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত থাকবে না বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকার ঘোষিত এই বিশেষ ছুটির সময় সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে জনস্বার্থে এবং জরুরি সেবা সচল রাখতে বেশ কিছু সেক্টরকে এই ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট এবং ডাক সেবায় নিয়োজিত কর্মী ও সংশ্লিষ্ট যানবাহনগুলো এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।


চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতাল ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক এবং অন্য কর্মীদের জন্য এই ছুটি কার্যকর হবে না। একই সঙ্গে ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও কর্মস্থলে নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য অফিসগুলোও তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চালু রাখবে।


প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক ও আদালতের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে এবং আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানাবে।


বেসরকারি খাতের শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।


সাধারণত বাংলাদেশে সরকারি ছুটির বিষয়টি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এবং নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা-১৯৫৯ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। নির্বাহী আদেশে ঘোষিত এই ছুটি মূলত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি প্রযোজ্য হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তাদের নিজস্ব নীতিমালা ও শ্রম আইন অনুযায়ী এটি অনুসরণ করে থাকে।


গত সপ্তাহে তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানের দিকে ইরানি হামলার খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এসব দেশের দিকে ‘ইরানের ভূখণ্ড থেকে কোনো আক্রমণ শুরু করা হয়নি’। খবর আল-জাজিরা।



সোমবার (৯ মার্চ) তেহরানে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই কথা বলেন।


তিনি ইঙ্গিত দেন, হামলার অভিযোগ ‘সাজানো’ হতে পারে।


তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে শত্রুপক্ষ আমাদের এবং অন্যান্য দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে কিছু হামলার কাহিনি সাজিয়ে থাকতে পারে।’


বাঘাই বলেন, আমরাই এই যুদ্ধ শুরু করিনি বা উসকানি দিইনি। এটি কোনো পছন্দের যুদ্ধ নয়। এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি প্রয়োজনের যুদ্ধ।


সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত এ ধরনের বিষয়ে আলোচনা ‘প্রাসঙ্গিক নয়’। এই মুহূর্তেও সামরিক সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ে আমাদের মাতৃভূমি রক্ষার বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলা প্রাসঙ্গিক নয়।


শেয়ার করুন