১৯ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১২:২৮:৫৬ অপরাহ্ন
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশজুড়ে সেমাইয়ের বাজার তুঙ্গে
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৩-২০২৬
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশজুড়ে সেমাইয়ের বাজার তুঙ্গে

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারা দেশে সেমাইয়ের বাজার এখন পুরোপুরি জমে উঠেছে। রমজানের শেষ মুহূর্তে এসে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার হাট-বাজারে সেমাই ও চিনি কেনার ধুম পড়েছে।


বাংলাদেশে সেমাইয়ের বার্ষিক বাজার এখন ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশই এখন বড় বড় করপোরেট ব্র্যান্ডের দখলে। তবে খোলা সেমাইয়ের চাহিদাও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে অপরিবর্তিত রয়েছে।


বাজারে সাধারণ লম্বা বা বাংলা সেমাইয়ের চেয়ে লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ঘিয়ে ভাজা প্রিমিয়াম কোয়ালিটির লাচ্ছা সেমাইয়ের দিকে শৌখিন ক্রেতাদের ঝোঁক বাড়ছে। স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অনেক ক্রেতা খোলা সেমাইয়ের বদলে নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত সেমাই বেছে নিচ্ছেন।


মানভেদে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই (২০০ গ্রাম) ব্র্যান্ডভেদে ৪৫ থেকে ৭০ টাকা। চিনি প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


সেমাই উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বগুড়ায় এবার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার সেমাই বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা ও চাঁদপুরের কারখানাগুলোতেও দিনরাত সেমাই তৈরির কাজ চলছে। পাইকারি বাজারগুলোতে ট্রাকভর্তি সেমাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।


ঈদের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের সেমাই বাজারজাত করতে না পারে, সেজন্য বিএসটিআই ও স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু কারখানাকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে।


ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদের আগের শেষ ২-৩ দিনে সেমাই ও চিনির বিক্রি আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।



বিক্রেতারা বলেন, প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই ৪০০ গ্রাম ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর খোলা সেমাই এক কেজি ২০০ টাকায়। লাল সেমাই ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই।


ঈদের আনন্দে সেমাই যেনো এক অনুষঙ্গ। তাই এই খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহও সবসময় চিরচেনা। এবার ভালো বিক্রির কারণে বিক্রেতারাও খুশি। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদে সেমাই, চিনি, পাউডার দুধ, কিসমিস, আলু বোখরা এসবের চাহিদা বেশি থাকে। দাম আগে থেকেই বেড়ে রয়েছে, এখন আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই। মানুষের চাপ কিছুটা বেড়েছে, তাই বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঘরে ঘরে ঈদের দিনে মুখ মিষ্টি হয় সেমাই দিয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় এখন শুধু ব্যস্ততাই নয়, বরং উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে প্রতিটি সেমাইয়ের দোকান।


শেয়ার করুন