২৯ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ০১:০৩:১৬ অপরাহ্ন
ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ অভিবাসীর করুণ পরিণতি
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৯-০৩-২০২৬
ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ অভিবাসীর করুণ পরিণতি

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ২২ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন।


শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, একই নৌকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি নাগরিক।


নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার অন্তত ১২ জন অধিবাসীর পরিচয় পাওয়া গেছে। নিখোঁজ ও নিহতদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার তৎপরতা চলছে বলে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।



নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮), বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (নিখোঁজ, ধারণা করা হচ্ছে মৃত) রয়েছেন।



দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগরের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়েখ আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর নাম স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌযানে নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা এই মর্মান্তিক ঘটনার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নিহতের স্বজনরা জানান, উন্নত জীবনের আশায় স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন, এর মধ্যে ফাহিম সৌদি আরব থেকে লিবিয়াতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে উদ্ধার হওয়া ২৬ জনের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি ছাড়াও দক্ষিণ সুদান ও চাদের নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নৌকায় থাকা অনেক মৃতদেহ ইতোমধ্যে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে শোকের মাতম চলছে এবং পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে।


মাটিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল চৌধুরী বলেন, লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তায়েফ আর আমাদের মাঝে নেই- এ খবরটা খুব কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।


শেয়ার করুন