১১ মে ২০২৬, সোমবার, ০২:২৫:০৫ পূর্বাহ্ন
শপথ নিয়েই মমতাকে একহাত নিলেন শুভেন্দুর মন্ত্রী
  • আপডেট করা হয়েছে : ১০-০৫-২০২৬
শপথ নিয়েই মমতাকে একহাত নিলেন শুভেন্দুর মন্ত্রী

শপথ নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গতকাল শনিবার তিনি নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেন দেবীর আসনে বসিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল প্রমাণ করেছে যে তিনি কোনো ঐশ্বরিক সত্তা নন এবং আইনের ঊর্ধ্বেও নন।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যেই জবাব পেয়ে গেছেন। তিনি অনেক কথা বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ও অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের রায় দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোঝা উচিত যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি ভারতের সংবিধানের ঊর্ধ্বেও নন, আর তিনি ঈশ্বরও নন। তার সহকর্মী ও এমপিরা হয়তো তাকে খুশি করতে গিয়ে বলতেন, তিনি মা সারদা। কিন্তু মা সারদা আমাদের দেবী। সম্ভবত এসব শুনে তিনি খুশিই হতেন। কারণ তিনি কখনো তাদের থামানোর চেষ্টা করেননি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার কিছু বলার নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষই সব বলে দিয়েছেন।


শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এদিন অগ্নিমিত্রা পাল ছাড়াও দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তনিয়া মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।



বিজেপির একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা উচিত ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে অগ্নিমিত্রা বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত। এটি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আমাদের দলের সভাপতি এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সিদ্ধান্ত। মানুষের নানা মত থাকতে পারে। যদি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী হতো, তাহলে আবার কেউ বলত, পরিবর্তনের জন্য একজন পুরুষকে বেছে নেওয়া উচিত ছিল। তাই আমি মনে করি, এমন একজন মানুষ প্রয়োজন ছিল, যার গত ৩০ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে এবং যিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমার মনে হয়, শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ভালো কেউ হতে পারতেন না।


নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত, সে বিষয়েও কথা বলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, প্রথম কাজ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করা। আগের সরকার পুলিশ প্রশাসনকে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে, সেটা বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। অনেক জায়গায় পানি নেই, বাসস্থান নেই, শৌচাগার নেই, রাস্তা নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। এসব উন্নয়ন করতে হবে। আর তৃতীয় বিষয় হলো কর্মসংস্থান। যেসব তরুণ-তরুণী কাজের জন্য অন্য রাজ্যে চলে গেছে, তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।


শেয়ার করুন