০৩ জুন ২০২৬, বুধবার, ০৯:০২:০৮ অপরাহ্ন
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০৬-২০২৬
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেন ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। একই সময়ে শহরটিতে বড় অর্থনৈতিক ফোরাম শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।


রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রাতের হামলায় লেনিনগ্রাদ অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩৫০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০টি ড্রোন সেন্ট পিটার্সবার্গ সংলগ্ন এলাকায় ধ্বংস করা হয়।


লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলোভ জানিয়েছেন, তিনটি জেলায় লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


রুশ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, রাজধানী মস্কো ও পশ্চিমাঞ্চলীয় নোভগোরোদসহ দূরবর্তী এলাকাতেও ড্রোন আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছে।


স্মোলেনস্ক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর ভাসিলি আনোখিন। তার ভাষায়, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে দুই দমকলকর্মী নিহত হন, আহত হন আরও দুই দমকলকর্মী ও একজন বেসামরিক নাগরিক।


অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, দীর্ঘপাল্লার হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এর মধ্যে ক্রনস্টাড নৌঘাঁটি ও তাম্বভ অঞ্চলের একটি অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।


জেলেনস্কি হামলার ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, রুশ স্থাপনাগুলোতে বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষায়, দীর্ঘপাল্লার হামলা শান্তির দিকে এগিয়ে যেতে ভূমিকা রাখছে।


এই হামলা এমন সময় ঘটল যখন সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার বড় অর্থনৈতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে, যাকে অনেকেই ‘পুতিনের দাভোস’ হিসেবে অভিহিত করেন। হামলার কারণে বিমানবন্দরের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং কয়েক ডজন ফ্লাইটে বিলম্ব ঘটে।



এর আগের দিন রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও ডনিপ্রো শহরে বড় ধরনের হামলা চালায়, যেখানে অন্তত ২৩ জন নিহত হয় বলে জানিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ।


জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এতে ৬০০টির বেশি ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, যা বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।


শেয়ার করুন