কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু নিজেই এখন কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পথে। বলছি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত মাড়িয়া ইউনিয়নের কিসমত মাড়িয়া গ্রামের মসজিদের কথা। আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর এ মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নসম্পদ। অথচ সংরক্ষণের অভাবে এর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে।
রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে মাড়িয়া গ্রামের নিরিবিলি আমবাগানের মাঝে অবস্থিত মসজিদটি। চুন-সুড়কি ও ইটের তৈরি এ স্থাপনায় রয়েছে তিনটি কারুকার্যময় প্রবেশপথ ও তিনটি গম্বুজ। দেয়ালজুড়ে এখনও চোখে পড়ে পোড়ামাটির টেরাকোটার সূক্ষ্ম কাজ। মসজিদ সংলগ্ন "বিবির ঘর" নামের দ্বিতল চৌচালা ভবনটি স্থানীয়দের কাছে বিশেষ আগ্রহের।
দেশের অধিকাংশ প্রাচীন মসজিদের পাশে বড় দীঘি থাকলেও কিসমত মাড়িয়া মসজিদের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। ঐতিহাসিকদের মতে, তৎকালীন এলাকায় মুসলিম জনগোষ্ঠী সীমিত থাকায় মসজিদটি তুলনামূলক ছোট আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হলেও গত কয়েক দশকে মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ক্ষয়িষ্ণু দেয়াল, ঝরে পড়া টেরাকোটা ও আশপাশের ফসলি জমির সম্প্রসারণ এ স্থাপনাটির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামবাসীর মুখে মুখে এর নানা কিংবদন্তি প্রচলিত থাকলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ইতিহাসের এ সাক্ষী ধীরে ধীরে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ইতিহাস গবেষকদের দাবি, অবিলম্বে এ মসজিদটিকে সংরক্ষণের আওতায় এনে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে রাজশাহীর এ মূল্যবান সুলতানি নিদর্শনটি অচিরেই শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে।

