২৬ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ০৪:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন উল্টে গেলেন ট্রাম্প
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৫-০৭-২০২৬
সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন উল্টে গেলেন ট্রাম্প

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আলোচনা শেষে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চুক্তি সইয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শর্ত আরোপ করায় পুরো বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।


বুধবার (২২ জুলাই) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে অংশ নেন। কয়েক মাস বিলম্বের পর হওয়া এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।


তবে পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।


এই আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনের পর প্রশ্ন ওঠে, চুক্তি স্বাক্ষরের একদিনের মধ্যেই কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প?


হোয়াইট হাউস ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতবিরোধ

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি ঘোষণার সময় ও পদ্ধতি নিয়ে হোয়াইট হাউস এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।


হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, সৌদি আরবের জন্য এই শর্ত নতুন কিছু নয়। ট্রাম্প বরাবরই চেয়েছেন, সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিক। তবে চুক্তি ঘোষণার পর ট্রাম্পের শর্তারোপের বিষয়টি তার প্রশাসনের পারমাণবিক চুক্তি-সংশ্লিষ্ট আলোচকদেরও বিস্মিত করেছে। সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা দুটি সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিতে শেষ মুহূর্তে এই শর্ত যোগ করা হবে, তা তারাও জানতেন না।


পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ওপর দোষ চাপাতে শুরু করেন। সূত্রগুলোর দাবি, হোয়াইট হাউস চেয়েছিল ওই দিনই চুক্তির ঘোষণা না দেওয়া হোক। কিন্তু জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট নির্ধারিত অনুষ্ঠান চালিয়ে যান এবং পরে সংবাদমাধ্যমেও এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হন।


হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে যে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি হচ্ছে, তা সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্বালানি দল এ ব্যাপারে পুরোপুরি একমত। এটাই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।’


অন্যদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পুরো প্রক্রিয়ায় তারা হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করেছে। তাদের ভাষ্য, সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগ সঠিক নয়।


মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বেন ডিটারিখ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আলোচনা থেকে শুরু করে চুক্তি ঘোষণার প্রতিটি ধাপেই হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ভিন্ন কোনো দাবি সত্য নয়।’


তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক চুক্তি ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস—দুটোর লক্ষ্যই এক। সেটি হলো সংঘাত নয়, বাণিজ্যের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।


শেয়ার করুন