ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারত সফরে যাবেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন এ দাবি করেছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ভারতীয় কূটনীতিককে নিজের এই অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ভারতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক আশ্রয়ের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ৫ আগস্ট দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তার ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার আক্রমণাত্মক সুর ও আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণায় ঢাকা চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে।
ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের ওপরই ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে। শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত না দেওয়া হলে সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না বলে ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে অনুপস্থিতিতে দণ্ড দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ঢাকামুখী একাধিক অনুরোধের জবাবে দিল্লি জানিয়েছে যে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

