১৯ অগাস্ট ২০২৬, বুধবার, ১১:১৯:১৯ পূর্বাহ্ন
ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করল আমিরাত
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৮-২০২৬
ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করল আমিরাত

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আবুধাবি। আমিরাতের এ সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এক মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা।



আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার কারণে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।


সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা কিমিট আল জাজিরাকে বলেন, দুবাই ও ইরানের মধ্যে পণ্য ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্ব কোনোভাবেই কম করে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে ইরানে আমদানি করা পণ্যের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী হলো দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কও তাদের পেছনে রয়েছে।


তিনি বলেন, প্রতি বছর ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের ভূমিকার কারণে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালানোর একটি পথও পেয়েছে ইরান।


কিমিটের ভাষ্য, অনেক দিক থেকেই আমিরাতের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোও আমিরাতের পথ অনুসরণ করবে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপাতত দেশগুলো সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি মনে করছেন।


তিনি বলেন, আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কী ঘটে, সেটি এখন সবাই দেখবে ও অপেক্ষা করবে।


কিমিটের মতে, আমিরাতের সিদ্ধান্ত এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ইরান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও দেখতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনারও তুলনা করেন।


শেয়ার করুন