০২ ডিসেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ০১:১২:৫০ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে ক্লাস ছেড়ে পদ্মা পারে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-০৫-২০২২
রাজশাহীতে ক্লাস ছেড়ে পদ্মা পারে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজশাহীতে ক্লাস ছেড়ে পদ্মা পারে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা

রাজশাহীতে ক্লাস ছেড়ে পদ্মা পারে আড্ডা দিচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মেতে উঠছে আড্ডায়। দলে দলে তারা আড্ডা দিতে গিয়ে জড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে। প্রকাশ্যে ধূমপানও করছে নানা বয়সি মানুষের সামনে। ছেলেমেয়েরা হাত ধরে ব্যস্ত ঘুরাঘুরিতে। বসছে ঘনিষ্ঠভাবে। একে অপরকে জড়িয়েও ধরছে প্রকাশ্যে। উঠতি বয়সী এমন শিক্ষার্থীদের আচরণকে দৃষ্টকটু হিসেবে দেখছে সচেতন মহল।

সীমান্ত অবকাশের পাশ থেকে টি-বাঁধ পেরিয়ে পুলিশ লাইনের সীমান্ত পর্যন্ত পদ্মার বাধ ঘেঁষে রয়েছে রাস্তা। এ রাস্তায় দামি ব্র্যান্ডের মোটরবাইক নিয়ে বেপরোয়া চলাফেরা করে ধনীর দুলালরা। এদের অধিকাংশের হেলমেট নেই। হাইস্পিডের কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এরাই মেয়েদের যৌন হয়রানি করে। গত ৭ দিন ঘুরে সরেজমিন শিক্ষার্থীদের এসব কর্মকাণ্ড পরিলক্ষিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বেপরোয়া আচরণে অভিবভাবকরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আর এসব আড্ডা কেন্দ্রগুলো হলো পদ্মা পারের বড় কুঠি, বড়কুঠিসংলগ্ন কফি বার, পাঠানপাড়াসংলগ্ন মুক্তমঞ্চ, সীমান্ত নোঙর, সীমান্ত অবকাশ, সিমলা পার্ক, সার্কিট হাউজের রাস্তা, টি-বাঁধ এবং আই-বাঁধ এলাকায়। মহানগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সকাল ৮টা থেয়ে ৯টার মধ্যে ক্লাস শুরু হয়। সাধারণত সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই শিক্ষার্থীরা পদ্মা পারে আসতে থাকে। আর আড্ডা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মহানগরীর সিএন্ডবি মোড় থেকে সার্কিট হাউজ রোডের শিশু একাডেমির বিপরীতে একটি চায়ের দোকানে দলবেঁধে আড্ডা দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। সেখানে প্রকাশ্যে ধূমপান করছে। অশ্লীল ভাষায় একে অপরের সঙ্গে কথা বলছে। পাশ দিয়ে বেশি বয়সি মানুষ চলাফেরা করলেও ব্যাপারটি তারা আমলে নিচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক তাদের নাম জিজ্ঞাসা করলে, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানায়। পাশেই নদীর বাঁধের নিচে চায়ের স্টলে জটলা প্রায় ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থীর। অধিকাংশেরই বয়স ১৭ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। কয়েকজন স্মার্টফোন নিয়ে ব্যস্ত। ফোনের স্ক্রিন আড়াল করে খারাপ কিছু দেখছে। তাদের আচরণেই সেটি বোঝা যাচ্ছে।

টি-বাঁধে শিক্ষার্থীদের জটলা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাঁধের ওপর ফুচকা, চটপটি এবং পেয়ারাসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি হয়। পাশেই বাঁধের নিচে বসে জুটিতে জুটিতে চলছে প্রেম। ফলে সেখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা বিব্রত হচ্ছেন। সোমবার সকালে টি-বাঁধে ১২ বছর বয়সি নাতিকে নিয়ে হাঁটছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আলিমুল হক।

তিনি প্রতিবেদককে বলেন, মহানগরীতে সবচেয়ে নির্মল স্থান পদ্মার পার। এখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসেন। কিন্তু দেখছি শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে এখানে এসে আড্ডা দিচ্ছে। প্রকাশ্যে ধূমপান ও অশ্লীল ভাষায় কথা বলছে। জুটি জুটি হয়ে বসছে। ফলে এখানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে এসে লজ্জার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিষয়টি দেখা উচিত। সবাই যেন এখানে বেড়াতে এসে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এছাড়া টি-বাঁধ থেকে নৌকায় চড়ে ওপারে চরে যাচ্ছে। সেখানে নির্জন স্থানে মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে এরা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার রফিকুল আলম বলেন, আমরা নজরদারি রেখেছি। থানাগুলোকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে, যেন শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে পদ্মা পারে আড্ডা দিতে না পারে।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, আমিও লক্ষ্য করেছি- শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে নদীর পারে আড্ডা দিচ্ছে। আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকাল ৮টায় ক্লাস শুরু হয়। এরপর কলেজের সব গেটে গেটম্যান রাখা হয়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা বাইরে বের হতে পারে না। তিনি বলেন, পারবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে। এখনকার সন্তানরা বড়দের শ্রদ্ধা করছে না। সম্মান দেওয়া শিখছে না। মোবাইল ফোনের কারণে অবক্ষয় বেশি হচ্ছে। রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কালা চাঁদ শীল বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাস ছেড়ে পদ্মা পারে আড্ডার বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে আমরা অচিরেই অভিভাবকদের সঙ্গে বসব। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে একই ধরনের কথা বলেছেন অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরাও।

শেয়ার করুন