২৭ নভেম্বর ২০২২, রবিবার, ০৪:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন
ডিএমপিতে শাস্তিপ্রাপ্তদের ৭৬ ভাগই কনস্টেবল
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-১০-২০২২
ডিএমপিতে শাস্তিপ্রাপ্তদের ৭৬ ভাগই কনস্টেবল

পুলিশকে মাদকমুক্ত করতে ঢাকঢোল পিটিয়ে ডোপ টেস্ট (মাদকাসক্তি পরীক্ষা) শুরু হলেও তা অনেকটা থেমে গেছে। এই টেস্ট শুরুর প্রথম ১১ মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) ১০০ জন শনাক্ত হলেও পরের ২০ মাসে শনাক্ত হয়েছেন মাত্র ২০ জন। অপরদিকে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে ৭৬ ভাগই কনস্টেবল। বাকিরা নায়েক থেকে পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার সদস্য। উচ্চপর্যায়ের (এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব) পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ডোপগ্রহণজনিত বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি তাদের ডোপ টেস্টও হচ্ছে না। যদিও শুরুতে পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, পর্যায়ক্রমে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট করা হবে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও একই ধরনের কথা বলা হয়েছিল।

একাধিকবার চেষ্টা করেও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ডোপ টেস্টসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের সবচেয়ে বড় এই ইউনিটে গত ২ মাসের বেশি সময় ধরে কোনো ডোপ টেস্ট হচ্ছে না। এর আগে ডিএমপির ১২০ সদস্য ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন। এদের মধ্যে ১১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ দুজনের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। অপরজন চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। বাকি ১০৯ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া করা হয়েছে।

সূত্রমতে, পুলিশ সদস্যদের মাদকমুক্ত রাখার প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ডিএমপিতে ২০২০ সালের ১০ মার্চ প্রথম ডোপ টেস্ট শুরু হয়। ধারাবহিকভাবে এটা চলতে থাকে। সবশেষ ডোপ টেস্ট হয় ২৭ জুলাই। ডোপ টেস্টে যারা অভিযুক্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৮৪ জনই কনস্টেবল। এছাড়া সাতজন করে নায়েক ও এএসআই, একজন সার্জেন্ট, ১১ জন এসআই এবং একজন পুলিশ পরিদর্শক আছেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে ১০০ জনকে শনাক্ত করেছি। শনাক্তকৃতদের মধ্য থেকে ৩০ জনকে বরখাস্ত করেছি। এ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।’

২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের এক অনুষ্ঠানে পুলিশের তৎকালীন আইজি ড. বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, ‘ডোপ টেস্ট হলে ঘর পরিষ্কার করার অভিযান। বাহিনীর সবার জন্য এটি প্রযোজ্য এবং অব্যাহত থাকবে। পুলিশে মাদকসেবীর কোনো স্থান নেই।’

জানতে চাইলে পুলিশ এসোসিয়েশেনর সাধারণ সম্পাদক ও যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘ডোপটেস্ট একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা জোরালো গতিতে অব্যাহত রাখা উচিত। কারণ, মাদক একটি জাতীয় সমস্যা। মাদকের বিরুদ্ধে যাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তারাই যদি এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ব্যর্থ হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘ডোপ টেস্ট শুরুর সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি এবং পুলিশ কমিশনার মহোদয় ঘোষণা করেছিলেন, কনস্টেবল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সন্দেহজনক পলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে। তাই আমি মনে করি পুলিশের টপ টু বটম ডোপ টেস্টের আওতায় আনা উচিত। না হলে নিচেরে পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।’ ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম রোববার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, ‘ডোপ টেস্টের আগে আমরা সন্দেহজনকদের তালিকা তৈরি করি। তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্ট করি। দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক লোক পাচ্ছি না। এ কারণে নতুন করে টেস্ট হচ্ছে না। যারা সন্দেহের তালিকায় ছিল তাদের চাকরি থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজন পুলিশ পরিদর্শককে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তাদের এক ধাপ পদাবনতি করা হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট আমরা করাইনি। কারণ, তারা ক্যাডার সার্ভিস কর্মকর্তা। পুলিশে ক্যাডার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্ট করতে হলে অন্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। আমি এককভাবে এটা করতে চাইলে পারব না। এতবড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ারও আমার নেই।’

শেয়ার করুন