১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ০৬:২২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পূজার আগে বোনাসের দাবিতে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-১০-২০২৬
পূজার আগে বোনাসের দাবিতে চা শ্রমিকদের ধর্মঘট

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দুর্গাপূজার আগে বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন মিরতিংগা চা বাগানের শ্রমিকরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে শ্রমিকদের কণ্ঠে ছিল ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবি।


এ সময় তাদের মাথা ও হাতে কালো পতাকা ছিল। সাদা কাগজে কালো অক্ষরে লেখা ছিল, রুটি-রুজির সংগ্রাম চলছে, চলবে, বেতন নিয়ে টালবাহানা চলবে না। 


শ্রমিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর চা উৎপাদনে শ্রম দিলেও উৎসবের আগে প্রাপ্য বোনাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হচ্ছে। পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার কথা যে সময়ে, সে সময়ই নিজেদের পাওনা আদায়ে রাজপথের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে তাঁদের।


শ্রমিকরা জানান, প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে তারা ৬০ শতাংশ হারে বোনাস পেয়ে আসছেন। কিন্তু এবার বাগান কর্তৃপক্ষ ৩০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা বলেছে। এতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা পূর্ণ বোনাসের দাবিতে একজোট হয়েছেন। বুধবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।



 

চা শ্রমিক রিতা পাইনকা, শান্তি তাঁতি, আলন্তী উরাং, মানিক প্রসাদ, লেবুলাল বাউরী ও সুমন কুর্মীসহ আন্দোলনকারীরা জানান, সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে চা উৎপাদন সচল রাখেন তারা। অথচ উৎসবের সময় নিজেদের পাওনা নিয়েই অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে। 


তাদের অভিযোগ, বাগানে লোকসান না থাকলেও শ্রমিকদের বোনাসের ক্ষেত্রে টালবাহানা করা হচ্ছে। পূর্ণ বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।


বাগানের সাবেক সভাপতি নিরঞ্জন তন্তবাই ও বর্তমান সভাপতি মন্টু অলমিক বলেন, আশপাশের চা বাগানগুলোতে শ্রমিকেরা বেতন-বোনাস পেলেও মিরতিংগার শ্রমিকেরা এক সপ্তাহের মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস পাননি।


শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ না করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মিরতিংগা চা বাগানের ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন যৌক্তিক। বোনাস দেওয়ার জন্য কৃষি ব্যাংকের কাছে ঋণ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যাশিত অর্থ না পাওয়ায় পূর্ণ বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়নি। অর্ধেক বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শ্রমিকেরা তা গ্রহণ করছেন না।




শেয়ার করুন