০২ ডিসেম্বর ২০২২, শুক্রবার, ০১:৪২:০০ অপরাহ্ন
আরডিএ প্রকৌশলীর স্ত্রীর নামেও দুনীতির মামলা
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৪-০৬-২০২২
আরডিএ প্রকৌশলীর স্ত্রীর নামেও দুনীতির মামলা

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৭৬ লাখ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়। এর একদিন পর তার স্ত্রী নিশাত তামান্নার (৩৯)  বিরুদ্ধেও পৃথক আরেকটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

বৃহস্পতিবার প্রকৌশলীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বাদী হয়ে দুর্নীতির মামলাটি করেন দুদক রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন। নিশাত তামান্নার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লাখ ১৩ হাজার ২১১ টাকা।

বিচারসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির নথি পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, শেখ কামরুজ্জামান রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্ত্রী নিশাত তামান্না একজন গৃহিণী। ২০১৭ সালে রাজশাহী দুনীতি দমন কমিশনে শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসে। অভিযোগগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে যাচাই বাছাই করা হয়। অনুসন্ধান যোগ্য বলে নিশ্চিত করা হয়।  কমিশন নিয়মানুযায়ী শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান ও চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুমতি চাওয়া হয়।  পরে প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্নাকে ২০১৯ সালের ১৭ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন নিজ নিজ সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ওই বছরের ৬ আগস্ট পৃথক পৃথকভাবে নিজেদের সম্পদ বিবরণী দুদক রাজশাহী অঞ্চল কার্যালয়ে দাখিল করেন। তাদেরকে দুদক কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় একাধিকবার।

দুদকের বিভাগীয় পরিচালক কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে  দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসাইন অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিশাত তামান্নার সম্পদের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, নিশাত তামান্না দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে দাবি করেন তার নামে ১৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ও ১০ লাখ টাকার অস্থাবরসহ মোট ২৬ লাখ ১৭ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। কিন্তু নিশাত তামান্নার আয়কর নথি বিবরণী ও অন্যান্য সব নথিপত্র অনুসন্ধান ও পর্যালোচনায় দুদক দেখতে পান তার নামে মোট ৫৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিশাত তামান্না দুদকের কাছে ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ গোপন করেন যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
         
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, নিশাত তামান্নার সম্পদ বিবরণী যাচাই ও আয়কর নথি এবং অন্যান্য রেকর্ড  পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, তার বৈধ আয় ছিল ১২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ও একই সময়ে তার ব্যয় ছিল ১০ লাখ ৭০ হাজার ২১১ টাকা। এই সময়ে তার বৈধ আয়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৯ টাকা। অনুসন্ধানকালে দুদক প্রাপ্ত নিশাত তামান্নার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা থেকে তার বৈধ আয় ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৯ টাকা বাদ দিলে ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ২১১ টাকা অবৈধভাবে ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয় যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে  জানা গেছে, নিশাত তামান্না রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার পবা নতুনপাড়া মহল্লার নুরুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামীর নাম শেখ কামরুজ্জামান। তিনি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী প্রকৌশলী ও সাবেক এস্টেট অফিসার। নিশাত তামান্না পবা নতুনপাড়ায় স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন।

দুদক নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ সালের ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ সালের ৪(২) ও ৪ (৩) ধারায় মামলাটি দায়ের করেছেন।
 
উল্লেখ্য, গত ১ জুন নিশাত তামান্নার স্বামী শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদক অবৈধভাবে ৭৩ লাখ ৫০ হাজার ৬৮৬ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই ধারায় পৃথক একটি মামলা করেন। তবে এখনো স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি।

এছাড়া শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে দুদক আরেকটি দুর্নীতির মামলা করেন যার চার্জশিট ইতোমধ্যে আদালতে জমা হয়েছে। আগের মামলাটিতে প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। 

শেয়ার করুন