১৩ জুলাই ২০২৪, শনিবার, ১২:৩০:৫১ পূর্বাহ্ন
ভোট বর্জনে নানামুখী কৌশল বিএনপির
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৫-০৫-২০২৪
ভোট বর্জনে নানামুখী কৌশল বিএনপির

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান সফলভাবে কার্যকর করতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। নেওয়া হচ্ছে নানান কৌশল।

ভোট প্রতিহত নয়, ভোটারদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করতে শান্তিপূর্ণ পন্থায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছে দলটি। সারা দেশে ইতোমধ্যে ৫ লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে সাংগঠনিক টিম জেলা-উপজেলায় করছে কর্মিসভা।

দলটির লক্ষ্য-যতটা সম্ভব কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমানো। এরই অংশ হিসাবে সাংগঠনিক জেলার মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের আত্মীয়স্বজন যাতে কেন্দ্রে না যান, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

চার ধাপের উপজেলা নির্বাচন ৮ মে থেকে শুরু হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনও বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোটে যাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে দলটি। প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৮০ জন নেতা এবং দ্বিতীয় ধাপে অংশ নেওয়া ৬১ নেতাকে বহিষ্কারও করেছে।

এমনকি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতা ভোটে অংশ নেওয়া বহিষ্কৃতদের কোনোভাবে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না দিয়ে সরকার আরেকটা ‘ফাঁদ’ পেতেছে। উদ্দেশ্য-বিএনপিকে নির্বাচনে নেবে। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক আছে এবং থাকবে। যে নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারবে না, বাংলাদেশে সেই নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জনগণ ভোট দিতে যায়নি। উপজেলা নির্বাচনেও যাবে না।’

দলটির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে ৫ লাখ লিফলেট সারা দেশে পাঠানো হয়েছে। যা ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আরও পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া জেলাগুলোকে বলা হয়েছে অনুরূপভাবে তারা লিফলেট ছাপিয়ে বিতরণ করবে। এতে সারা দেশে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। জনগণ বিশ্বাস করে না এই অবৈধ সরকার ও তাদের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। যে কারণে বিএনপি ও বিরোধীদের ডাকে সাড়া দিয়ে জনগণ ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জন করেছে। এবারও জনগণ বিএনপি আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপজেলার ভোট বর্জন করবে।’

দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানান, উপজেলার ভোট প্রতিহত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভোট বর্জনে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাংগঠনিক টিমে থাকা নেতারা জেলায়-উপজেলায় কর্মিসভা করছেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে-দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই ভোটাররা যেন কেন্দ্রে না যান, সে বিষয়ে গণসংযোগ আরও বাড়াতে।

নেতারা মনে করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে ১৪ ও ১৮ সালে এবং সর্বশেষ ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। নিজেরা ‘ডামি’ ভোট করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একইভাবে হচ্ছে। তাই আসন্ন উপজেলা নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচন হবে আগের মতোই প্রহসনমূলক।

শেয়ার করুন