১৮ অগাস্ট ২০২২, বৃহস্পতিবার, ০৪:২৩:১৬ অপরাহ্ন
ঈদের পর বাকি ২৪ জনকে হলে তুলবে প্রশাসন
  • আপডেট করা হয়েছে : ০২-০৭-২০২২
ঈদের পর বাকি ২৪ জনকে হলে তুলবে প্রশাসন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কক্ষ ছাড়া করে তাদের সিটে ২০ আবাসিক শিক্ষার্থীদের তুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ভোররাত ৪টা পর্যন্ত হল প্রশাসনের অভিযানে তাদেরকে তুলে দেওয়া হয়। তবে এখনো ২৪ শিক্ষার্থী হলে উঠতে পারিনি। তাদেরকে ঈদের পর তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারির পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ৯৪টি আসন খালি হয়। পরে হল প্রশাসন সিট বরাদ্দের জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদনের আহ্বান জানায়। আবেদন শেষে ৬৬ জন শিক্ষার্থীকে আবাসিকতা দেয় হল প্রশাসন। যাদের মধ্যে ১৩ জন আগে থেকে হলে ছিলেন আর ৯ জনকে পরে হলে তুলে দেয় প্রশাসন। পরবর্তীতে ৭২টি সিট অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দখলে থাকে। এই অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।

এমতাবস্থায় আবাসিক ৪৪ জনকে হলে তুলতে গত ২৩ জুন হল প্রাধ্যক্ষ অনাবাসিকদের ২৯ জুনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। আর কোনো অনাবাসিক শিক্ষার্থীর সমস্যার থাকলে অভিভাবকসহ ২৮ জুনের মধ্যে প্রাধ্যক্ষের সাথে দেখা করতে বলা হয়। তার মধ্যে কয়েকজন প্রাধ্যক্ষের সাথে দেখা করেন। পর তাদেরকে হলে রাখা হয়। এছাড়া আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে বাঁধা দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেবে বলে বিজ্ঞপ্তি দেয় হল প্রশাসন।

পরবর্তীতে গত শুক্রবার (১ জুলাই) পূর্বনির্ধারিত বিকেল ৪টা থেকে অনাবাসিক ছাত্রদের নামানোর অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল সেখানে আসতে দেরি করায় হল প্রশাসন শিক্ষার্থীদের হলে উঠাতে পারে না। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের বিছানাপত্র নিয়ে হল ফটকের সামনে অবস্থান নেন। পরে সন্ধ্যার দিকে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক আসেন। পরবর্তীতে হল প্রাধ্যক্ষ, অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল, ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর এবং হলের আবাসিক শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। পরে দীর্ঘ ৫ ঘন্টা পর রাত ৯টা থেকে ভোররাত ৪টা পর্যন্ত হল প্রশাসনের অভিযানে ২০ জন শিক্ষার্থীকে সিটে তুলে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলে ওঠা এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে হলে ভাড়া দিয়ে আসছি কিন্তু হলে উঠতে পারছিলাম না। প্রভোস্ট স্যার আজকে হলে তুলে দেওয়ার জন্য ডাকে। এ জন্য আমি বেলা ৩টার দিকে বিছানাপত্র নিয়ে হলে আসি। পরে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর স্যার আমাকে আমার সিটে তুলে দিয়েছেন। স্যারকে এমন উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

এ প্রসঙ্গে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল সভাপতি নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘‘আমাদের যারা হলের সিটে আছেন। সে যেই হোক না কেনো আমাদের প্রথম পরিচয় হচ্ছে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট (ছাত্র)। আমাদের যারা সিটে আছেন তাদের জন্য আমরা তার কাছে (প্রাধ্যক্ষ) বার বার গিয়েছে অ্যালটমেন্টের (সিট বরাদ্দ) জন্য কিন্তু তিনি রাজি হননি। তিনি তার  রাজনৈতিক আইডিওলজি (আদর্শ) থেকে তাদেরকে সিটগুলো দিয়েছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যখন স্টুেডেন্ট (ছাত্র) ছিলো, তখন নবাব আব্দুল লতিফ হল ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ফেরদৌসী মহল বলেন, হলগুলোতে বিভিন্ন মহলের প্রভাবে অনেক শিক্ষার্থী অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। ফলে হলের বৈধ শিক্ষার্থীরা সিট না পেয়ে ভোগান্তিতে রয়েছে। হলের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে এমন অভিযান চলমান থাকবে।

হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অবৈধভাবে হলে অবস্থান, সিট দখল ও বৈধ শিক্ষার্থী নামিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তারই প্রেক্ষিতে বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে উঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আজকে আমরা ২০ জনকে তুলে দিয়েছি আর বাকি ২৪ জনকে আমরা ঈদের পর যোগাযোগ করলে পর্যায়ক্রমে তাদের তুলে দিব।’

তিনি রাজনৈতিক আইডিওলজি থেকে তাদেরকে সিটগুলো দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘তাদের অভিযোগ মিথ্যে ও বানোয়াট। যখন তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে না তখন আমাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এখানে বিএনপি-জামাত বা অন্য কোন রাজনৈতিক দল বলে কোন ব্যাপার নেই। এখানে কোন সংগঠনের না বরং যারা অবৈধভাবে অবস্থান করছিল শুধু তাদেরই বের করে দেওয়া হয়েছে।’’

শেয়ার করুন