০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ১১:২৫:৪৩ পূর্বাহ্ন
৫ লাখ গাজাবাসীকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে সম্মত মিশর
  • আপডেট করা হয়েছে : ২২-০৩-২০২৫
৫ লাখ গাজাবাসীকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিতে সম্মত মিশর

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে অস্থায়ীভিত্তিতে সিনাইয়ে আশ্রয় দিতে রাজি আছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ এল সিসি। লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-আকবারের বরাতে শুক্রবার এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গাজায় ইসরাইলের হামলায় তিন দিনে ২০০ শিশু নিহত হয়েছে। কেবল বৃহস্পতিবারেই ভোররাত থেকে ইসরাইলের হামলায় নিহত হয় নবজাতকসহ অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি। 


দখলদার ইসরাইলের হামলায় ধ্বংস নগরীতে পরিণত হয়েছে গাজা। গাজাকে পুনর্গঠন করতে কাজ করছেন আরব বিশ্বের নেতারা। মিশরের প্রেসিডেন্ট তাদের জানিয়েছেন, যখন গাজা পুনর্গঠনের কাজ চলবে, তখন অস্থায়ীভিত্তিতে ৫ লাখ ফিলিস্তিনিকে সিনাইয়ে আশ্রয় দিতে পারবেন তিনি। আল-আকবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ও সৌদি আরবে আরব নেতাদের মধ্যে বিগত সপ্তাহগুলোতে যেসব বৈঠক হয়েছে সেখানে তাদের এ ব্যাপারে জানান মিশরের প্রেসিডেন্ট। তবে মিশর বা আরব বিশ্বের কোনো দেশ এ ব্যাপারে মন্তব্য করেনি। গত মাসে আরব নেতারা একটি সম্মেলন করেন। সেখানে গাজাকে তিন ধাপে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হয়। যেটি বাস্তবায়ন করতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ পড়বে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় প্রায় ৫ লাখ বাড়ি তৈরি করা হবে। এছাড়া সেখানে একটি বিমানবন্দরও বানানো হবে। তবে এমন পরিকল্পনার মধ্যেই গাজার আবারও ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে দখলদার ইসরাইল। গত সোমবার রাতে বর্বর বোমাবর্ষণ করে একরাতেই ৪০০-র বেশি মানুষকে হত্যা করে তারা। এই হত্যাযজ্ঞ এখনো অব্যাহত আছে। গাজায় গত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিয়ে ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে তিন দিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, ২০০ শিশুসহ ৫০৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৯০৯ জন। কেবল বৃহস্পতিবারেই ভোররাত থেকে গাজা জুড়ে ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছে নবজাতকসহ অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি। 


ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম 'কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক' জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী খান ইউনিসে বেশ কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর দক্ষিণ গাজায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়। 


এদিকে, গাজার উত্তরাঞ্চলে, বেইত লাহিয়া শহরের পশ্চিমে আস-সুলতান এলাকায় একটি পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হলে অন্তত সাত জন নিহত হয়। আলজাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজম গাজা শহরের কেন্দ্র থেকে জানান, ইসরাইলি হামলা গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে ভোরের দিকে। ইসরাইলি বাহিনী অন্তত ১১টি আবাসিক ভবন ধ্বংস করেছে। আবু আজম বলেন, বৃহস্পতিবার হামলায় এক নবজাতক-সহ বেশ কয়েক জন শিশু এবং নারী নিহত হন। তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের হামলার একটি স্পষ্ট কৌশল রয়েছে, তারা কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা চালাচ্ছে। ইসরাইলের সর্বসাম্প্রতিক এই হামলা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার গাজায় প্রায় দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পূর্ণ শক্তি নিয়ে ইসরাইলে হামলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন এরই মধ্যে। তার এই ঘোষণার পর হামলা আরো জোরদার হয়েছে। দখলদার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাজ হুমকি দিয়েছেন, হামাস যদি তাদের জিম্মিদের মুক্তি না দেয় তাহলে গাজায় ইসরাইলের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এদিকে বুধবার, গাজার কেন্দ্রস্থলে ইসরাইলি বিমান হামলায় জাতিসংঘের এক বিদেশি কর্মী নিহত এবং আরো পাঁচজন আহত হয়। জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য প্রধান টম ফ্লেচার এ হামলাকে 'বিপর্যয়কর' বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জাতিসংঘের কর্মীদের ওপর হামলা করা যাবে না।


শেয়ার করুন