জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, গতকাল আমরা ঈদ উদযাপন করেছি, কিন্তু দেশের অসংখ্য পরিবারে ঈদের আনন্দ ছিল না। বিশেষ করে যারা এ বিপ্লবে শহীদ হয়েছেন। ওই মায়েদের, ওই পরিবারে কিন্তু ঈদের আনন্দ নেই। ঈদের নামাজের পর ছুটে গিয়েছি শহীদ কাউসার হোসেন বিজয়ের বাড়িতে। তার বাবাকে বললাম কী অবস্থা, কেমন আছেন? বললেন, সারারাত তারা কান্নাকাটি করেছেন। এভাবে অসংখ্য পরিবারের ঈদ আনন্দকে ফ্যাসিস্ট সরকার কেড়ে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করিম বলেন, যে যুবকরা গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে, তাদের ঈদের আনন্দ ছিল না। তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই। শহীদদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ আমরা করবোই। আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই, আগের আচার-আচরণ পরিবর্তন করুন। বাংলাদেশ এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। পুরোনো কায়দায় চাঁদাবাজি-লুণ্ঠন বন্ধ করুন। মানুষের ওপর নির্যাতনের পরিকল্পনা এখন আর জনগণ মানবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কিছু কিছু এলাকা গত ১৫ বছর ফিলিস্তিনি-গাজার মতোই ছিল। কোনো কোনো ভূখণ্ডকে আওয়ামী লীগ সে রকমই বানিয়েছিল। শাপলা চত্বর যখন আমাদের আলেম ওলামাদের রক্তে লাল করা হয়েছিল, তখন ফিলিস্তিনির মতোই পরিণত হয়েছে। সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহসহ অসংখ্য এলাকাকে ফিলিস্তিনির বুলডোজার দিয়ে জমিনের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। যারা মিশিয়ে দিয়েছে তারা কিন্তু এ জমিতে থাকতে পারে নাই। তারা কিন্তু পালিয়ে গিয়েছে। তারা আমাদেরকে পাকিস্তানি লোক বলতো। বিরোধী দলকে বলতো পাকিস্তান চলে যান। আমরা কিন্তু পাকিস্তান যাইনি, আওয়ামী লীগের সব লোকেরাই কিন্তু ভারত চলে গেছে।
ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আব্দুর রবের সঞ্চালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার বাড্ডা থানার আমির মাওলানা কুতুব উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুনুর রশিদ, ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আবু সালেহ ইব্রাহীম, সেক্রেটারি হাফেজ আবদুল হক ও জামায়াত নেতা তায়েফ হোসেন প্রমুখ।