৩০ অগাস্ট ২০২৫, শনিবার, ০৭:০২:২৬ অপরাহ্ন
ভালো উইকেটে ভালো খেলার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩০-০৮-২০২৫
ভালো উইকেটে ভালো খেলার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন আর ছোট-বড় দলের তফাত নেই। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে কোনো দলই যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। সেই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে আজ সন্ধ্যা ৬টায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের আগে এটি টাইগারদের শেষ প্রস্তুতি হলেও, প্রধান কোচ ফিল সিমন্স এই সিরিজকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন। 


গতকাল সংবাদমাধ্যমে সিমন্স বলেছেন, শ্রীলঙ্কায় যে ইতিবাচক ক্রিকেট বাংলাদেশ দেখিয়েছে, সেটি ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে 'পাওয়ার হিটিং' নিয়ে আলাদা কাজ হয়েছে। কোচের মতে, এর ফলাফল সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যাবে না, তবে ধীরে ধীরে খেলোয়াড়দের ন্যাচারাল শক্তি কাজে লাগিয়ে এগোতে পারবে দল। পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উড ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন, যার প্রতিফলন সামনের ম্যাচগুলোতে ধরা দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।


 


এ দিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অনেক নজির আছে যেখানে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে হোঁচট খেয়েছেন টাইগাররা। সেই প্রশ্নও এসেছে কোচের সামনে। সিমন্স অবশ্য বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিই সামনে এনেছেন- হারলে সমালোচনা হবেই। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে হারলেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সুতরাং সমালোচনা এড়াতে হলে একটাই পথ- ভালো ক্রিকেট খেলা।


কোচের কথায় পরিষ্কার, বাংলাদেশ শুধু জেতা-হারার হিসাবেই সিরিজে নামছে না। বরং মূল লক্ষ্য হলো ধারাবাহিক উন্নতি। শ্রীলঙ্কা সফরে যে ইতিবাচক মানসিকতা ও ক্রিকেট প্রদর্শন করেছে দল, সেটি ধরে রাখতে চান সিমন্স। তার ভাষায়, 'আমরা চিন্তা করছি না প্রতিপক্ষ কে। আমরা চিন্তা করছি আমরা কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারছি, কতটা উন্নতি হচ্ছে।'




সিরিজ হবে সিলেটে। এখানকার উইকেট নিয়ে বরাবরই ইতিবাচক মন্তব্য এসেছে বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচদের কাছ থেকে। সিমন্সও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তার মতে, সিলেটের উইকেটের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য জায়গার উইকেটের মিল রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ তৈরি হবে, যা দলকে আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসী করবে।


বাংলাদেশ যেমন এশিয়া কাপকে সামনে রেখে এই সিরিজে নামছে, তেমনি নেদারল্যান্ডসও আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবেই সিরিজটিকে দেখছে। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন- বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা তাদের জন্য বড় পরীক্ষা এবং নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের আদর্শ সুযোগ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশ নেওয়ায় ডাচরা আর 'ছোট দল' হিসেবে পরিচিত নয়।




বাংলাদেশ ক্রিকেটের বড় সমস্যা হলো ধারাবাহিকতা। কখনো বড় দলের বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে আলোচনায় আসে, আবার হঠাৎ করেই ছোট দলের বিপক্ষে হোঁচট খায়। এবার সেই পুরোনো প্রবণতা কাটিয়ে ওঠার সামনে বড় সুযোগ লিটন কুমার দাসদের। পাওয়ার হিটিং, বোলিংয়ের বৈচিত্র্য ও ফিল্ডিং- সব ক্ষেত্রেই উন্নতির চেষ্টা চলছে। এখন সেটি মাঠে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।


এশিয়া কাপের আগে এই সিরিজ বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস যোগাতে পারে, আবার ব্যর্থতা হলে উলটো চাপও বাড়তে পারে। তবে ফিল সিমন্স যেভাবে ধারাবাহিক উন্নতির ওপর জোর দিচ্ছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশ শুধু ফল নয়, প্রত্রিয়াকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। আর সেই প্রত্রিয়াই যদি সঠিক পথে এগোয়, তবে ডাচদের বিপক্ষে সিরিজটাই হতে পারে বড় টুর্নামেন্টের আগে টাইগারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।


শেয়ার করুন