২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, বৃহস্পতিবার, ০৯:২৯:৪৫ অপরাহ্ন
চলন্ত বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ, ৬ জন রিমান্ডে
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৮-২০২২
চলন্ত বাসে ডাকাতি-ধর্ষণ, ৬ জন রিমান্ডে

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এছাড়া আরও ৪ আসামী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আদালতে। আজ মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারজানা হাসানাত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে ১৪৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া ব্যাক্তিরা হলো- রাসেল, আলাউদ্দিন, নিম ও রাসেল। রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন, মো. আব্দুল মান্নান, বাবু হোসেন জুলহাস, সোহাগ, জীবন প্রামাণিক, খন্দকার মো. হাসমত আলী দিপু। এরআগে মঙ্গলবার বিকেলে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত ছয়জনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস অন্তত ২৪ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি হোটেলে খাবারের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। সেখান থেকে যাওয়ার পর ৩ দফায় ১০ জন যাত্রী সেজে বাসে ওঠেন ডাকাত সদস্যরা। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে যাত্রীরা ঘুমানোর একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের নাটিয়াপাড়া এলাকা পৌঁছালে ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে পুরো বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। প্রথমে পুরুষ যাত্রীদেরকে তাদের পোশাক খুলে হাত মুখ বাধা হয়।

কিছু দূর যাওয়ার পরে বাসটিকে ঘুরিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা কালিহাতী হয়ে মধুপুরে আসেন। এরই মধ্যে ডাকাত দলের সদস্যরা সবার হাত-মুখ ও চোখ বেঁধে জিম্মি করেন। এরপর যাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল, টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নেন। পরে ৫ থেকে ৬ জন ডাকাত দলবদ্ধভাবে গাড়িতে থাকা এক নারীকে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালুর ঢিবির কাছে বাসের গতি থামিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গত রবিবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ সময় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টাঙ্গাইল গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও ইনচার্জ (ডিবি উত্তর) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ছয়জনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালত ছয়জনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেয়ার করুন