তফসিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, বিষয়টি দল নজরে রেখেছে। বিএনপির মতো বড় দলে যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। অনেকেই মনে করেন, তাকে মনোনয়ন দিলে আরও ভালো হতো—সেই প্রত্যাশা থেকেই কেউ কেউ চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, এখনো মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়নি। আমরা তাদের আহ্বান জানিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে যেন তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। অনেকেই ইতোমধ্যে প্রত্যাহারের কথা আমাদের জানিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি। অন্যথায় দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তান তারেক রহমানকে রেখে গেছেন, যিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দেশের মানুষ তার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায় বলেই তাকে ঘিরে মানুষের এত আবেগ ও প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরোত্তম এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবেন। তারেক রহমান নিজেই বলেছেন, ‘আমার মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন, আমি সেখান থেকেই শুরু করব।’ দেশনেত্রী দেশের জন্য যা করেছেন, সেখান থেকে আরও এগিয়ে নিতে পারলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।
দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে ভালো কাজের বিরোধিতা থাকেই। সম্প্রতি শহীদ হাদি (ওসমান হাদি) হত্যাকাণ্ডও এরই অংশ। যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও কল্যাণে কাজ করতে চায়, তাদের শত্রু থাকেই।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। এ বিষয়ে সরকারকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি এবং আবারও জানাবো যেন তারা সক্রিয় ও কৌশলী ভূমিকা পালন করে। যারা নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ চায় না, তারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে। তবে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে বিএনপি আশাবাদী।

