বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি গুম-খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কিন্তু এখনো বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি যেন কথা বলতেই না পারে—এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে এবং কথা বললেই তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত করা হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে বারডেম হাসপাতালে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। যারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা অপরিপক্ক। তারা হয়তো আমার সম্পর্কে কিছুই জানে না। এ ধরনের অপরিপক্ক লোকজন যদি সংসদে আসে, তাহলে সংসদের অবস্থা কী হবে—আল্লাহই ভালো জানেন।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে লবিস্ট নিয়োগ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলটিকে জনসমর্থন থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “আজ নির্বাচনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। খুনখারাবি ও মব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো হচ্ছে। যারা এসব করছে, তারা কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি। জনগণ তাদের আসল চেহারা বুঝে গেছে। দেশপ্রেমিক শক্তির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে, কিন্তু জনগণ আর এসব ফাঁদে পা দেবে না।”
২০১৮ সালের নির্বাচনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। “আমার বাসা তখন কার্যত হাসপাতালে পরিণত হয়েছিল। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স সারাক্ষণ কাজ করেছে,” বলেন তিনি।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, সে সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের রক্ষা করেছেন। তার বিরুদ্ধে অবিচার ও নির্যাতন চালানো হলেও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। অথচ তার ত্যাগের প্রতি কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুদ্দিন, বারডেম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নাসির উদ্দিন, কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল ইসলামসহ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

