তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখে পড়েছে ইরানের সরকার। বিক্ষোভ দমাতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ; চালানো হচ্ছে দমনপীড়ন। দেশটির মানবাধিকার সংস্থা এইচএরএএনএ-এর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে গত দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাবাহিনীর ১৪ সদস্য রয়েছেন।
শুক্রবার ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং জার্মানির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ থেকে ১৩ দিন আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই রূপ নিচ্ছে সরকার পতনের আন্দোলনে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে অবমাননাসূচক স্লোগান দিচ্ছেন যা দেশটির বাস্তবতায় খুবই বিরল।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লক জানিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে যথাযথ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করে বলেছে, বিক্ষোভ দমন করতে ইরান শাসকরা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যে অপরাধ করছে, তার প্রকৃত প্রমাণ লুকাতেই 'সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ' করা হয়েছে।
এদিকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটিতে বিমানের ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।
দুবাই বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, দুবাই ও ইরানের মধ্যকার অন্তত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভের মুখে পিছু না হটার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেইসঙ্গে বিক্ষোভকারীরা ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।