৩১ জানুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ১২:৩৩:২০ অপরাহ্ন
আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস— ভারতীয় সাংবাদিকের মন্তব্য
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৮-০১-২০২৬
আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস— ভারতীয় সাংবাদিকের মন্তব্য

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা বলে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। তাদের জায়গায় ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে চতুর্থ হওয়া স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্রিকেটবিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। আইসিসির সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিচারিতা’ আখ্যা দিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। অনেকের মতে, পুরো সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের প্রভাবই মূল কারণ।


বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসি পড়েছে চরম বেকায়দায়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, পাকিস্তান এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে কি না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে শুক্রবার অথবা সর্বোচ্চ আগামী সোমবারের মধ্যে।


এই পরিস্থিতিতে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।


এমন সংকটময় সময়ে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রা আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এই পুরো সংকটের জন্য মূলত বিসিসিআইয়ের প্রভাব ও অহংবোধই দায়ী। এক সাক্ষাৎকারে উগ্রা বলেন, ‘আইসিসি মূলত বিসিসিআইয়ের দুবাই অফিস ছাড়া আর কিছুই নয়।’


দ্য ওয়্যার–এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারদা উগ্রা বাংলাদেশের বিষয়ে আইসিসির সিদ্ধান্তকে সরাসরি ভারতের প্রভাবপ্রসূত বলে মন্তব্য করেন। উপস্থাপক করণ থাপারের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে (মোস্তাফিজুর রহমান) আলাদাভাবে চিহ্নিত করার পর পুরো দল যখন বলে দেয় তারা খেলতে যাবে না, তখন পরিস্থিতি আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব থাকে না।’


ভারত সরকারের সরাসরি নির্দেশ ছিল কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে উল্লেখ করলেও উগ্রা বলেন, ‘আমি পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এই সংকটের পেছনে ভারতের বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে বিসিসিআইয়ের প্রভাব, আইসিসির ভেতরে তাদের আধিপত্য এবং আইসিসি বোর্ডে থাকা অন্যান্য দেশের প্রায় নতজানু আচরণ এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।’


ক্রিকেটবিশ্বে ভারতের বিপুল আর্থিক প্রভাবকেও এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন শারদা উগ্রা। তার ভাষায়, ‘ভারতীয় ক্রিকেটের অর্থনৈতিক শক্তিই আইসিসিকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এখানে স্পষ্ট বৈষম্য দেখা যায়—বাংলাদেশ যদি ভারতে গিয়ে খেলতে আপত্তি তোলে, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বরং বলা হয়, এটি আইসিসির নিয়মের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু এই যুক্তি অত্যন্ত দুর্বল এবং টেকসই নয়।’


আইসিসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে উগ্রা বলেন, ‘ক্রিকেটমহলে এটা এখন ওপেন সিক্রেট—আইসিসি আসলে বিসিসিআই যেভাবে চায়, ঠিক সেভাবেই পরিচালিত হয়। আইসিসির এক্সিকিউটিভ বোর্ডও প্রায় একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাই এই সিদ্ধান্তে আমি মোটেও বিস্মিত নই।’


শেয়ার করুন