০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৯:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন
আগামী শুক্রবার তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠকের সম্ভাবনা
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৩-০২-২০২৬
আগামী শুক্রবার তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠকের সম্ভাবনা

তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। দেশ দুটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে এই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকের সঙ্গে এক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।


ওই কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচক ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনা সংবেদনশীল হওয়ায় তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।


তিনি আরও বলেন, তুরস্ক, মিসর, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় এই সম্ভাব্য বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।


এদিকে, একজন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে শুক্রবার ইস্তাম্বুলে সাক্ষাৎ হতে পারে। বৈঠকে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।


ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট উভয় পক্ষকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো একে অপরের অবস্থান শোনা।’


এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর শর্তগুলো তেহরান বিবেচনা করছে। উভয় পক্ষই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে এবং নতুন আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।


শুক্রবারের এই বৈঠকের খবর প্রথম প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার, মিসর, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেন।


অ্যাক্সিওস একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৈঠকটিকে ‘সম্ভাব্য সেরা পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করলেও সতর্ক করে বলেছে, বাস্তবে না হওয়া পর্যন্ত কিছুই চূড়ান্ত নয়।


এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— আলোচনা ব্যর্থ হলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। সোমবার তিনি বলেন, ‘চুক্তি না হলে সম্ভবত খারাপ কিছু ঘটবে।’


হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জাহাজ এখন ইরানের দিকে যাচ্ছে—বড় জাহাজ, সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী। একই সঙ্গে আমরা ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি। দেখা যাক কী হয়। যদি কোনো সমাধান বের করা যায়, তা দারুণ হবে। না পারলে সম্ভবত খারাপ কিছু ঘটবে।’


এর আগে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরান কূটনীতির জন্য প্রস্তুত।


ইরানের ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির মাজারে সফরের সময় তিনি বলেন, ‘কূটনীতিরও নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। আমি আশা করি আমরা শিগগিরই ফল দেখতে পাব।’


তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের শত্রুরা—যারা গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে—এখন কূটনীতির পথে এসেছে।’


আরাঘচি যোগ করেন, ‘এই পক্ষগুলো আজ কূটনীতির কথা বলছে, যদিও ইরান সবসময়ই পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল।’


এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।


শেয়ার করুন