ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা ঘিরে গত ২০ দিন ধরে যে রাজপথ ছিল মিছিলের দখলে। আজ রাজপথে নেই সেই মিছিল-মিটিংয়ের প্রচার। চায়ের কাপে ঝড় তোলা তর্কের সুর এখন মৃদু। কারণ, শেষ সময়ে এখন হিসাব মেলানোর পালা। সব মিলিয়ে দেশ এখন দাঁড়িয়ে এক মহেন্দ্রক্ষণে।
নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে পোস্টারে ঢাকা অলিগলি আর রঙিন তোরণগুলো এখন যেন সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক দীর্ঘ নির্বাচনী উৎসবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং জাতীয় সংস্কারের এক অগ্নিপরীক্ষা। ভোটাররা একই দিনে দুটি ব্যালট পাবেন। একটিতে বেছে নেবেন নিজ আসনের প্রতিনিধি, আর অন্যটিতে ‘জুলাই চার্টার’ নামক সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে দেবেন নিজের মত। এই দ্বিমুখী লড়াই নির্বাচনকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।
আর সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী। নির্বাচন কমিশন থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। ব্যালট পেপার ও স্বচ্ছ ব্যালট বক্স পৌঁছানোর কাজও চলছে দ্রুতগতিতে।
তবে প্রচারণা বন্ধ মানেই কাজ শেষ নয়। পর্দার আড়ালে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। প্রার্থীরা সশরীরে ভোটারদের দুয়ারে যেতে না পারলেও, ডিজিটাল মাধ্যমে বা কুশল বিনিময়ে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টা করছেন। ভোটাররা এবার বেশ সচেতন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের নীরবতাই বদলে দিতে পারে অনেক আসনের সমীকরণ।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে সংসদ নির্বাচনের প্রচার বন্ধ করতে হয়। এবারের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। তার ৪৮ ঘণ্টার আগে বলতে বোঝায় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সব প্রার্থীর সব ধরনের প্রচার শেষ হবে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে এবারের জন্য ২০ দিনের প্রচারের সুযোগ পেয়েছিল ইসি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রচার ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় বন্ধ হবে, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে।
১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করেছে ইসি। নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট প্রার্থী দুই হাজার ৩৪ জন, এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের ২২৯ জন প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৮ জন প্রার্থী।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।