২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ১০:০৭:২১ অপরাহ্ন
চুক্তি বাতিল হলেও ভিন্ন নামে চলছে ‘ই-পোস্ট’
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৩-০৬-২০২৬
চুক্তি বাতিল হলেও ভিন্ন নামে চলছে ‘ই-পোস্ট’

ডাক অধিদপ্তর এবং ই-পোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেডের মধ্যকার বিতর্কিত চুক্তিটি নীতিমালার পরিপন্থি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছিল। তবে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা সত্ত্বেও ‘রহস্যজনক’ এক নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ই-কমার্সভিত্তিক ডাকসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া এবং সরকারি স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তড়িঘড়ি করে সম্পাদিত এ চুক্তি এবং তা বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে ডাক অধিদপ্তর। এ চুক্তিটি নিয়ে শুরু থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল।


ডাক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডাক অধিদপ্তরের গঠিত কমিটির সুপারিশ এবং প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান পর্যালোচনার ভিত্তিতে ই-পোস্ট সফটওয়্যারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই বাতিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন পরই ‘নাগরিক সেবা’ এবং ‘আধুনিকায়ন’-এর দোহাই দিয়ে এ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। কোনো বৈধ চুক্তি ছাড়াই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কেন এখনো সরকারি সম্পদ ও অবকাঠামো ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাতিল হওয়া সত্ত্বেও চুক্তি বাতিল ঘোষণার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় ই-কমার্স সেবা কার্যক্রমটি নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখতে অফিস আদেশ জারি করা হয়। আর এ অফিস আদেশ জারি করেন ডাক অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক (মেইলস) কবির আহমদ। দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক পোস্টমাস্টার জেনারেল কার্যালয়ের উদ্দেশে দেওয়া ওই অফিস আদেশে বলা হয়, ডাক অধিদপ্তর এবং ই-পোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেডের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রটি ডাক অধিদপ্তরের গঠিত কমিটির সুপারিশ এবং প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান পর্যালোচনার ভিত্তিতে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ই-কমার্সসংক্রান্ত ডাকসেবা কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং এ কার্যক্রম স্থগিত না করে যথারীতি চালু রাখা নাগরিক সেবা ও প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের স্বার্থে অত্যাবশ্যক।


এ পরিপ্রেক্ষিতে, চুক্তি বাতিল হওয়া সত্ত্বেও ই-কমার্স সেবা কার্যক্রমটি যেন কোনোক্রমেই বন্ধ না হয় এবং তা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রাখা যায়—এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। অর্থাৎ, চুক্তি বাতিল হওয়া সত্ত্বেও নাগরিক সেবার অজুহাতে ই-পোস্টের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।


চুক্তি বাতিলের পর কার্যক্রম সচল রাখার এমন সিদ্ধান্ত এবং কোনো বৈধ চুক্তি ছাড়াই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কেন এখনো সরকারি সম্পদ ও অবকাঠামো ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল হলে সে চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত কার্যক্রমও সাধারণত শেষ হওয়ার কথা। যদি জনস্বার্থে কার্যক্রম চালু রাখা প্রয়োজন হয়, তাহলে নতুন চুক্তি, অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা প্রশাসনিক বৈধতা স্পষ্ট করা জরুরি। কিন্তু এক্ষেত্রে এর কোনো কিছু্ই মানা হয়নি।


নিয়মনীতি মানলে এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এটি একটি অসম্ভব ও নজিরবিহীন অনিয়ম। নাগরিক সেবার দোহাই দিয়ে বাতিলকৃত চুক্তি সচল রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইফতেখারুজ্জামান; নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস আদেশে স্বাক্ষর করা ডাক অধিদপ্তরের তৎকালীন পরিচালক (মেইলস) এবং বর্তমান খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল কবির আহমদ কালবেলাকে বলেন, দাপ্তরিক কোনো বিষয়ে চুক্তি করার এখতিয়ার আমার নেই। এ কাজে আমি ফুল অথরিটি নই। আমি সে সময় ডেস্কের দায়িত্বে ছিলাম। আপনার প্রশ্ন ঠিক আছে, কিন্তু আমি ফুল অথরিটি নই। আমি জাস্ট ওখানকার মাঝখানের একজন ব্যক্তি। আমি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এটার প্রস্তাবনা এসেছিল পোস্টমাস্টার জেনারেলের দপ্তর থেকে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ডিজি অনুমোদন দিয়েছিলেন। চিঠিটা জাস্ট আমি সই করেছি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত বিধি-বিধান পাশ কাটিয়ে এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার এ প্রচেষ্টা ডাক বিভাগের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, এটি অসম্ভব হলেও অনিয়মের বিবেচনায় আমাদের দেশে সবই সম্ভব। কিন্তু নিয়মনীতি মানলে এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এটি একটি অসম্ভব ও নজিরবিহীন অনিয়ম। নাগরিক সেবার দোহাই দিয়ে বাতিলকৃত চুক্তি সচল রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।



সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ই-পোস্ট সফটওয়্যারের সঙ্গে ডাক অধিদপ্তরের ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে। চুক্তিপত্রে এটিকে ‘গোপনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয় একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি। তবে, ই-পোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেডের সঙ্গে ডাক বিভাগের চুক্তি শুরু থেকে বিতর্কের জন্ম দেয়। তখন লাইসেন্স জটিলতা এবং চুক্তির বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।


২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশেষ বিবেচনায় লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা হলেও বিধিমালার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কারণ কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নামে ডাক অধিদপ্তরের সেবার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে একপেশে এ চুক্তি বাগিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রশ্ন ওঠে জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গোপনীয়তা এবং স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিয়ে।


চুক্তি অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ডাকঘরে ই-পোস্টের জন্য বুথ স্থাপন, বিজ্ঞাপন (ব্যানার/ফেস্টুন), বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, আসবাব ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে ডাক অধিদপ্তর। বুকিং করা পার্সেল সংরক্ষণ, যাচাই-বাছাই এবং ই-পোস্টের প্রতিনিধির কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব বিপিওর। ডিজিটাল কমার্স সেবা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালার ব্যয়ও বহন করবে ডাক। এত খরচ ও দায়িত্বের পরও বিপিওর আয় যৎসামান্য। ঢাকায় ডেলিভারি হলে ই-পোস্ট নেয় ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৮০ টাকা। বিপিও পায় যথাক্রমে ১০ ও ২০ টাকা।


মূলত ই-কমার্স থেকে পার্সেল এনে শুধু ডাক অধিদপ্তরের কাছে দেয় ই-পোস্ট। বিপিও নিজের ব্যবস্থাপনায় পার্সেল ডেলিভারি করে। মার্চেন্টের কাছ থেকে নেওয়া পার্সেল ডেলিভারিতে ই-পোস্ট ও বিপিওর যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার এটিই মূল বিষয়। কিন্তু এটি করতে গিয়ে ই-পোস্টকে নিজেদের যানবাহন, অবকাঠামো, ইউটিলিটি সুবিধা, জনবল এবং অনেক কারিগরি বিষয়ে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। আবার বিপিওর নিজস্ব ডিজিটাল সিস্টেমের বদলে ই-পোস্টের সফটওয়্যার সলিউশন দিয়ে চলছে পুরো কার্যক্রম। কিন্তু আয়ের সিংহভাগ রাখছে ই-পোস্ট। অর্থাৎ সব বিনিয়োগ ও দায় ডাকের, আর মুনাফা ই-পোস্টের। যদি ই-পোস্টের কাজটাই নিজেদের জনবল দিয়ে করা গেলে ডাক অধিদপ্তরের আয় বাড়বে; কিন্তু সেটি না করে বেসরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের আখের গোছানো হচ্ছে।


তথ্য অনুযায়ী, কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটির মূল নাম ছিল ই-পোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেড। ২০২২ সালে ই-ক্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল ই-পোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। পরে পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান পেপারফ্লাইয়ের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হাসান। তবে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্যোক্তা তমাল তার শেয়ার বিক্রি করে দিলে ই-পোস্টের মালিকানা বদলে যায়। মালিকানার সঙ্গে ই-পোস্ট সফটওয়্যার লিমিটেডের নাম বদলে করা হয় ক্লিকএক্স লিমিটেড।


নাম ও মালিকানা পরিবর্তন হলেও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ডাকের যানবাহন, অবকাঠামো ও জনবল ব্যবহার করে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পার্সেল পরিবহন করছে ক্লিকএক্স। অর্থাৎ, আগের বিতর্কিত চুক্তির আওতায় সেবা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিতর্কিত চুক্তিটি আইনি ত্রুটি ও অনিয়মের কারণে বাতিল করা হলেও, পর্দার আড়ালে এর কার্যক্রম সচল রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অন্যদিকে মালিকপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে পুরো বিষয়টিকে আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ করে তুলেছে।


সবচেয়ে বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এর মালিকানা নিয়ে। ই-পোস্টের মূল উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল দাবি করেছেন, ‘ই-পোস্ট’ এবং বর্তমানের ‘ক্লিকএক্স’ আসলে একই কোম্পানি, শুধু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্লিকএক্সের বর্তমান অন্যতম মালিক ও বিনিয়োগকারী রাফেল কবির দাবি করছেন, ই-পোস্ট এবং ক্লিক দুটি আলাদা কোম্পানি এবং ই-পোস্টের কোনো দায় বা চুক্তির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।


এ বিষয়ে ক্লিকএক্সের অন্যতম মালিক এবং বেসিসের সহায়ক কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান রাফেল কবির কালবেলাকে বলেন, ই-পোস্ট এবং ক্লিকএক্স দুটি আলাদা কোম্পানি এবং ই-পোস্টের কোনো দায় বা চুক্তির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি ই-পোস্টের বিতর্কিত ১০ বছরের চুক্তির বিষয়েও কিছু জানতাম না। সুতরাং ই-পোস্টের সঙ্গে চুক্তি বা চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।


তবে ই-পোস্টের মূল উদ্যোক্তা আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলছেন, ই-পোস্টের নাম পরিবর্তন করেই ক্লিকএক্স হয়েছে, ই-পোস্টের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কার্যক্রম চালাচ্ছে ক্লিকএক্স। তিনি কালবেলাকে বলেন, ডাক বিভাগের বিশাল অবকাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতকে বিকশিত করার উদ্দেশ্যে ই-পোস্ট গঠন করা হয়। এ চুক্তির পেছনে কোনো দুর্নীতি হয়নি। তখন ডিজিটাল কমার্সকে জনপ্রিয় করতে এটা করা হয়েছিল।


বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের দিকে আমার শেয়ার প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন অন্যান্য অংশীদারের কাছেই হস্তান্তর করে দিয়েছিলাম। ডাক অধিদপ্তরের আপত্তির কারণে ‘ই-পোস্ট’ নামটি পরিবর্তন করে প্রথমে ‘ফাস্টডোর লজিস্টিক’ এবং পরে ‘ক্লিকএক্স’ রাখা হয়। ক্লিকএক্স বর্তমানে ই-পোস্টের সেই একই কাজগুলো করছে বলেও জানান তিনি।


অর্থাৎ, একজন বলছেন কোম্পানি এক, অন্যজন বলছেন আলাদা। এ মালিকানা ও নাম পরিবর্তনের চক্করে ডাক অধিদপ্তরের সম্পদ কারা ব্যবহার করছে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া চুক্তি সম্পাদন এবং তা বাতিলের পরও কার্যক্রম সচল রাখার এ ঘটনা ডাক বিভাগে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বর্তমানে লাইসেন্স ছাড়াই কোম্পানিটি ডাক বিভাগের অবকাঠামো ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে।


সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমি তখন ছিলাম না, তবে যেটুকু বুঝেছি এখানে কারও প্রভাব কাজ করেছে। কীভাবে চুক্তি হয়েছে এবং বাতিলের পরও কীভাবে কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে এজন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ফাইন্ডিংস অনুযায়ী পুরো বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন