১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ০৩:০৫:২০ পূর্বাহ্ন
দুই মাসের শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চাচির, গোপন ক্যামেরায় ধরা
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৪-০৭-২০২৬
দুই মাসের শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চাচির, গোপন ক্যামেরায় ধরা

নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শিশুটির চাচির বিরুদ্ধে। পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিশুটির বাবা কাউসার। মঙ্গলাবার (১৪ জুলাই) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সম্প্রতি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের সায়েবা বেগম ও কাউসার মিয়ার সন্তান। অভিযুক্ত রত্না বেগম কাউসার মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী এবং শিশুটির চাচি।


শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের পর থেকেই শিশুটি প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে কান্না করত। এতে শিশুটির মা সায়েবা বেগমের সন্দেহ হয়। কেউ কি তার অনুপস্থিতির সুযোগে শিশুটিকে নির্যাতন করছে; এমন সন্দেহের ভিত্তিতে সম্প্রতি শিশুটির মা ঘরের ভেতরে গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের ব্যবস্থা করে।



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির চাচি রত্না বেগম ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশুর একটি পা জোরে মুচড়ে দিয়ে দৌড়ে চলে যান। পরে শিশুটির মা কান্না শুনে দ্রুত এসে দেখেন অস্বাভাবিকভাবে শিশুটি কান্না করছে।


শিশুর বাবা কাউসার মিয়া বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী রত্না অগোচরে শিশুটিকে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী ঘরের ভিতর একটি মোবাইলে ভিডিও চালু করে রাখে। শিশুটি কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখেন ‘আমার ভাইয়ের স্ত্রী শিশুটির একটি পা সজোরে মুচড়ে দেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙ্গেনি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে। তবে শিশুটির পা ভাঙ্গার ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।


মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। শিশুটির মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙ্গেনি। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হত।


পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।


শেয়ার করুন