রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী ও
রেলওয়ের টিটিইর মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী
দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এতে রেলওয়ের ৩৫ লাখ টাকার
রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
এ
ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রেলওয়ের
জনসংযোগ (পশ্চিম) (অ.দা.) উপ-পরিচালক জাহিদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ
প্রকাশ করা হয়েছে
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, গত ২১ জুলাই
দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাবির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে
রেলওয়ের এক কর্মচারীর অনাকাঙ্ক্ষিত
ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে রাবির
কিছু শিক্ষার্থী রেলপথ অবরোধ করে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী এবং বিভিন্ন রুট থেকে রাজশাহীগামী ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। ওইদিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত
চলা এ অবরোধের কারণে
মুমূর্ষু ও অসুস্থ রোগী,
বিদেশগামী যাত্রী, নারী ও শিশুসহ সাধারণ
যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
রেলওয়ের
তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের কারণে ১০টি আন্তঃনগর ও ৯টি কমিউটার
ট্রেন ১ ঘণ্টা থেকে
সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা ৩০
মিনিট পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। এছাড়া ২টি আন্তঃনগর ও ৪টি কমিউটার
ট্রেনের যাত্রা বাতিল করতে হয়। এতে বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে প্রায়
২০ হাজার যাত্রী দুর্ভোগের শিকার হন। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকার
রাজস্ব ক্ষতি হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে এ ঘটনায় যাত্রীদের
দুর্ভোগের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বিষয়টি
নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও
তিনি রিসিভ করেনি।
প্রসঙ্গত,
পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটিইর বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল
৬টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের সামনে রেললাইনের ওপরে গাছের শেকড়, ব্রেঞ্চ, বাঁশের সঙ্গে লাল কাপড় টানিয়ে এবং
আরডিএ ওভারপাসের নিচে রাবি ও রুয়েটের মধ্যবর্তী
স্থানে রেলক্রসিংয়ে লাল নিশান টানিয়ে রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় সারাদেশের
সঙ্গে রাজশাহীর ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এ
ঘটনায় রাবি শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিনকে ট্রেনে মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং উচ্চতর তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়।

