কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ। সোমবার অনুষ্ঠিত ফেডারেল উপনির্বাচনে টরন্টোর বিচেস–ইস্ট ইয়র্ক আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
ইলেকশন কানাডার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, তানভীর শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১৭,২৫১ অর্থাৎ মোট ভোটের ৫৫.৩ শতাংশ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনডিপির প্রার্থী শ্যানন ডিভাইন পেয়েছেন ৮১৫৯ অর্থাৎ ২৬.২ %, কনজারভেটিভ পার্টির জিম সিরবস পেয়েছেন ১৪,৮৫৭ ভোট অর্থাৎ ১৫.৬ শতাংশ, গ্রিন পার্টির ব্রুস লাইভসি ৫৩১ ভোট অর্থাৎ ১.৭%, পিপলস পার্টি অব কানাডার মিশেল লাশাঁস ২৪০ ভোট অর্থাৎ ০.৮ % এবং কানাডিয়ান ফিউচার পার্টির ক্যামেরন থমাস পেয়েছেন ১৫৭ ভোট তথা ০.৫%।
তানভীর শাহনেওয়াজের এই জয় শুধু তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, কানাডার বাংলাদেশি-কানাডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি গর্বের ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দেশটির ফেডারেল পার্লামেন্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন একজন জনপ্রতিনিধির অভিষেক কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ও বহুজাতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ক্রিসেন্ট টাউনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানভীর শাহনেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে তার নির্বাচনী এলাকার টরন্টো কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো স্কারবরো থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন। প্রায় এক দশক তিনি সাবেক এমপি নাথানিয়েল এরস্কিন-স্মিথের সঙ্গে কাজ করেছেন। এ সময় তিনি কনস্টিটুয়েন্সি অফিস ম্যানেজার এবং পরে স্পেশাল অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তানভীর শাহনেওয়াজের নির্বাচন কানাডার রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। অভিবাসী ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে—তাঁর নির্বাচন তারই একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।
এর আগে আরেক বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন।
এদিকে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর স্কারবরো সাউথওয়েস্টে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আসনে এমপিপি (MPP) পদে লিবারেল পার্টির প্রার্থী আহসানুল হাকিম এবং কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডা. নূরুল্লাহ—দুই বাংলাদেশি-কানাডিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনডিপির প্রার্থী ফাতিমা শাবান।

