৩১ অগাস্ট ২০২৬, সোমবার, ১০:৩৯:১৬ অপরাহ্ন
কারিগরি শিক্ষকদের বেতন ছাড়তে দেরি, যা জানালো অধিদপ্তর
  • আপডেট করা হয়েছে : ৩১-০৮-২০২৬
কারিগরি শিক্ষকদের বেতন ছাড়তে দেরি, যা জানালো অধিদপ্তর

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ছাড়তে দেরি হওয়ার পেছনে সময়মতো বেতন-সংক্রান্ত তথ্য ও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) সাবমিট না করাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর।



নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য না দেওয়ায় বিল প্রক্রিয়াকরণে বিলম্ব হয়। পরে এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে আলাদাভাবে সমাধান করতে গিয়ে সময় আরও বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।


অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সংক্রানৎ তথ্য ও ইএফটি সময়মতো সাবমিট করতে বলা হয়। এজন্য একাধিকবার নোটিশ ও তাগাদা দেওয়া হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে তা করেন না। ফলে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে হয় অধিদপ্তরকে।


এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণত মাসের ৯ তারিখের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দিয়ে পরবর্তী ১৫ তারিখের মধ্যে বেতন সংক্রান্ত তথ্য সাবমিট করতে বলা হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান ১৫ তারিখেও তথ্য সাবমিট না করে তাদের আবারও তাগাদা দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও অনেক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায় না।


এমনকি এ অপেক্ষার সময়সীমা বেড়ে মাসের ২৫ তারিখও হয়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, বেতন সংক্রান্ত তথ্য দেরিতে সাবমিট করার পাশাপাশি অনেক শিক্ষক পুরো মাস পার হয়ে গেলেও তথ্য দেন না। ফলে তারা আলাদা করে অধিদপ্তরে যোগাযোগ করলে সেই সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হয় অধিপ্তরকে।


অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান থেকে পরে ফোন করে শিক্ষকরা জানান যে, গত মাসে বেতন সংক্রান্ত তথ্য সাবমিটই করেননি। তখন তাদের সমস্যা আলাদা করে সমাধান করতে হয়। তিনি আরও বলেন, প্রায় ২২ হাজারের বেশি শিক্ষকের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে তা যাচাই-বাছাই শেষে আইবাস-এ পাঠানো হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য সময়মতো না এলে পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয় করতে অতিরিক্ত শ্রম ও সময় লাগে।



এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষকদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা করেন না বলেও অভিযোগ করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। এছাড়া অধিদপ্তর প্রতি মাসের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানগুলোর বেতন-সংক্রান্ত তথ্য সময়মতো নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় বলেও জানান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।


মোহাম্মদ আবু সাঈম বলেন, অনেক সময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার বলা হয় ‘আপনারা বেতন সাবমিট করেন’। এরপরও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজটি না করায় অধিদপ্তরকে অপেক্ষা করতে হয়। ফলে কিছু শিক্ষকের বেতন ছাড়ে বিলম্ব হয়ে যায়।


শেয়ার করুন